প্রায় দুই মাস পর দিল্লি ও আগরতলায় বাংলাদেশের মিশন থেকে ভারতের নাগরিকদের জন্য ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। দিল্লি ও আগরতলার কূটনৈতিক সূত্রগুলো শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে দিল্লি, কলকাতা ও আগরতলায় বাংলাদেশের মিশন ঘিরে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর বিক্ষোভের পর ২২ ডিসেম্বর দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশন অনিবার্য কারণে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা ও কনস্যুলার সেবা সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দেয়।
এর আগে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ভারত বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করে। শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) পর্যন্ত বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভিসা সেবা স্বাভাবিক করার বিষয়ে দিল্লির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, সে দেশে (বাংলাদেশে) একটা নতুন সরকার এসেছে। সম্পর্কের উন্নতিতে সব বিষয় নিয়েই নতুন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। ভারত চায় দুই দেশের ঐতিহাসিক ও বহুমুখী সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই দিন পর ভারতীয়দের জন্য বাংলাদেশের ভিসা সেবা চালুর সিদ্ধান্ত এবং দিল্লির বক্তব্য—দুই দেশের সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত বহন করছে।
গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানসহ বিভিন্ন ইস্যুতে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছিল। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি ভারতের সমর্থন বাংলাদেশে সমালোচনার জন্ম দেয়। অপরদিকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ তোলে দিল্লি। এসব ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা তৈরি হয়।
ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছিল, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। নির্বাচনের আগে থেকেই সম্পর্কের উন্নতির বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল।
ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সোয়াল আরও বলেন, নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে ভারত অপেক্ষায় রয়েছে। সব দিক বিবেচনায় নিয়ে সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে ভারত আগ্রহী।
নির্বাচনের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের ভাবি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর হাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তুলে দেন। চিঠিতে একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ দেখতে ভারতের আগ্রহের কথা উল্লেখ ছিল।
১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ অনুষ্ঠানের পর তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ওম বিড়লা। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি। প্রায় আধঘণ্টার বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের ইতিবাচক পরিবর্তন, পারস্পরিক মর্যাদা ও স্বার্থ এবং জনগণের কল্যাণের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয় বলে কূটনৈতিক সূত্র জানায়।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর দুই দেশ সম্পর্কের উত্তরণে আগ্রহ দেখাচ্ছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের ইতিবাচক অবস্থান ভবিষ্যৎ সম্পর্কের দিকনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নতুন সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বার্থ বজায় রেখে সকল দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চাই।’
সিএ/এমই


