ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় ভাঙা ও পোড়ানো আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ব্যানার ও জাতীয় পতাকা টাঙিয়ে স্লোগান দিয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির নেতা-কর্মীরা। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে তারাকান্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকার শহীদ মিনারের সামনে অবস্থিত কার্যালয়ে ১০ সদস্যের একটি দল প্রবেশ করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন এবং পরে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তারাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের তিনতলাবিশিষ্ট কার্যালো ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার ভোরে কয়েকজন সেখানে গিয়ে কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দেন, তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তারা সেখান থেকে সরে যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি দল কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে দেয়ালের এক পাশে দলীয় পতাকা, মাঝখানে জাতীয় পতাকা এবং অন্য পাশে ‘তারাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগ’ লেখা ব্যানার টাঙান। পরে সামনে আরও একটি জাতীয় পতাকা রেখে তাঁরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
ভিডিওতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের উপজেলা যুগ্ম সম্পাদক মুশফিকুর রহমান চৌধুরীকে সঞ্চালনা করতে গিয়ে বলতে শোনা যায়, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের অফিসগুলোতে যেন নেতা-কর্মীরা নিয়মিত যাওয়া–আসা করেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের নেতা তফাজ্জল হোসেন (রুনু) ভাই আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আসার জন্য।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারাকান্দা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাতার হোসেন তালুকদার বলেন, ‘আমি তারাকান্দায় গিয়ে বিস্তারিত জেনে তারপর বলতে পারব।’
তারাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করে বলছি, এটি চালু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই এবং সুযোগও নেই। এটি ভাঙা আছে, ভাঙাই থাকবে। তাঁরা কয়েকজন এসে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিয়েছেন। বাংলাদেশের ট্র্যাডিশনে যা হচ্ছে, তাই করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
সিএ/এমআর


