দেশের বিভিন্ন জেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের ৩৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক। নির্বাচন কমিশন, সরকার ও সব রাজনৈতিক দলের প্রতি নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।
সোমবার দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বড় কোনো সংঘাত ছাড়াই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া দেশের জন্য একটি বিরল ও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তবে নির্বাচনের পরদিন থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনায় সেই ইতিবাচক চিত্র ম্লান হয়ে গেছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাগেরহাট, ফরিদপুর, রংপুর, কুমিল্লা, পিরোজপুর, নাটোর, ঝালকাঠি, নোয়াখালীর হাতিয়া, ঝিনাইদহসহ একাধিক জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সহিংস হামলা ও পাল্টাপাল্টি প্রতিশোধের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় অন্তত একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে একটি নির্দিষ্ট দলকে ভোট দেওয়ার অভিযোগে জরিমানা আদায়ের ঘটনাও সামনে এসেছে।
যদিও বিজয়ী ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কর্মীদের নির্দেশনা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, বাস্তবে সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট সব দলের ও প্রার্থীদের প্রাথমিক দায়িত্ব নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের সহিংসতা থেকে বিরত রাখার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া বলে মনে করেন বিবৃতিদাতারা। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশ ও মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যদের আরও দৃশ্যমান ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, পক্ষপাতহীনভাবে আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অধিকার লঙ্ঘনের চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে হবে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সেনাবাহিনী এখনো মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে রয়েছে। নির্বাচনের আগের সময় থেকে শুরু করে নির্বাচনকালীন সময়ে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর যে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব দেখা গেছে, সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এমন বাস্তবতায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও সংঘাত কোনো অদৃশ্য মহলের জন্য কাঙ্ক্ষিত হলেও বাংলাদেশের জনগণের কাছে তা গ্রহণযোগ্য নয়।
সব রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, নারী, শিশু, সংখ্যালঘু, আদিবাসী, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণসহ সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রতি পূর্ণ সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সুলতানা কামাল, আনু মুহাম্মদ, হামিদা হোসেন, খুশী কবির, রাশেদা কে চৌধূরী, জেড আই খান পান্না, ইফতেখারুজ্জামান, রেহনুমা আহমেদ, আবু সাঈদ খান, শাহীন আনাম, শহিদুল আলম, সারা হোসেন, শামসুল হুদা, তাসলিমা ইসলাম, সুমাইয়া খায়ের, সুব্রত চৌধুরী, তবারক হোসেন, ফস্টিনা পেরেইরা, তাসনিম সিরাজ মাহবুব, রোবায়েত ফেরদৌস, জোবাইদা নাসরীন, কাজল দেবনাথসহ আরও অনেকে।
সিএ/এমআর


