ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিধি অনুযায়ী কোনো প্রার্থী যদি সংশ্লিষ্ট আসনে মোট বৈধ ভোটের কমপক্ষে ১২.৫ শতাংশ না পান, তবে তার জমাকৃত জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে মেহেরপুরের দুটি সংসদীয় আসনে এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রায় নিশ্চিত।
মেহেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, সরকারিভাবে আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশের পর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই জামানত বাজেয়াপ্তের কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
মেহেরপুর-১ আসনে মোট ১২৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা তাজ উদ্দিন খান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২১ হাজার ১৬১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত মাসুদ অরুন ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬৯ ভোট পেয়ে পরাজিত হন।
এই আসনে অন্য দুই প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট অত্যন্ত নগণ্য। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) প্রার্থী মিজানুর রহমান কাস্তে প্রতীকে ৭৮১ ভোট পেয়েছেন এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল হামিদ লাঙ্গল প্রতীকে ১ হাজার ৩৯০ ভোট পেয়েছেন। প্রাপ্ত ভোটের হার ১২.৫ শতাংশের নিচে হওয়ায় এই দুজন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে ৯০টি কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাজমুল হুদা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯৪ হাজার ৬৫৮ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী আমজাদ হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে ৮৫ হাজার ৪৫২ ভোট পেয়েছেন।
এ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী আব্দুল বাকী লাঙ্গল প্রতীকে মাত্র ১ হাজার ৮২৫ ভোট পান। নির্ধারিত ভোটের ন্যূনতম সীমা অতিক্রম করতে না পারায় তারও জামানত বাজেয়াপ্ত হতে যাচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ এ মেহেরপুরে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে নারী ভোটারদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। মেহেরপুর-১ আসনে ভোটার উপস্থিতি ৭৩.৫৭ শতাংশ এবং মেহেরপুর-২ আসনে ৬৯.৯৩ শতাংশ ছিল। জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, সব আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশ শিগগিরই করা হবে।
সিএ/এমআর


