হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) জাতিসংঘের অধীনে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে আন্দোলনরত সংগঠনটির নেতা-কর্মী ও পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে হামলার নির্দেশদাতা ও এতে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনটি।
আজ শনিবার এক বিবৃতিতে এইচআরএসএসের পক্ষ থেকে বলা হয়, আহত নেতা-কর্মী ও সাংবাদিকদের যথাযথ চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি এবং সাংবাদিকতার কাজে পুলিশের সহিংস আচরণ রোধে কার্যকর নির্দেশনা জারি করতে হবে।
সংগঠনটি মনে করে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশের এই ধরনের আচরণ বাংলাদেশের সংবিধানে স্বীকৃত মতপ্রকাশ এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘন। বিশেষ করে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকে রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহারের একটি উদ্বেগজনক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে এইচআরএসএস, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের পরিপন্থী।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পুলিশের মূল দায়িত্ব হলো জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা; নাগরিকদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক এই ঘটনার প্রমাণ দেখাচ্ছে যে, ভিন্নমত ও প্রতিবাদ দমনে অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অগ্রহণযোগ্য।
শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার এবং জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের দাবিতে গতকাল শুক্রবার ইনকিলাব মঞ্চের একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অতর্কিতভাবে লাঠিপেটা ও বলপ্রয়োগ করেন, উল্লেখ করেছে এইচআরএসএস।
ঘটনার সময় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য শান্তা আক্তার এবং ঢাকা-১৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনিসহ শতাধিক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হন।
ঘটনাস্থলে সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সাংবাদিকরাও হামলার শিকার হন। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হওয়ার পাশাপাশি তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি হয়। এছাড়া কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা আন্দোলনকারীদের মুঠোফোন তল্লাশি এবং কুরুচিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি জনমনে আতঙ্ক ও সংশয় তৈরি করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দায়মুক্তির সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর জনআস্থা আরও ক্ষুণ্ন হবে এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে। রাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান, আইনের শাসন এবং মানবাধিকারের প্রতি তার অঙ্গীকার বাস্তবে প্রমাণ করতে হবে।
সিএ/এমই


