ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনে মোট ২০৩ জন প্রার্থী লড়ছেন। এর মধ্যে সাতজন নারী প্রার্থী রয়েছেন। নির্বাচনে মোট ২৬০ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন, যার মধ্যে সর্বশেষ ২০৩ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।
বিভাগের সাত নারী প্রার্থী হলেন: নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল; নাটোর-২ (নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা) আসনে গণসংহতি আন্দোলনের তাহামিদা ইসলাম তানিয়া; সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদরের একাংশ) আসনে গণঅধিকার পরিষদের মল্লিকা খাতুন; সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি-রব) মনোনীত ইলোরা খাতুন; জয়পুরহাট-১ (জয়পুরহাট ও পাঁচবিবি) আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ-মার্কসবাদী) মনোনীত তৌফিকা দেওয়ান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখা; এবং বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বাসদের নারী প্রার্থী অ্যাডভোকেট দিলরুবা নুরী।
নাটোর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফারজানা শারমিন পুতুল প্রয়াত বিএনপি নেতা ও প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে। তিনি নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি বলেন, “রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের কথা সংসদে তুলে ধরতেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। নারীর অধিকারসহ দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শ্রমজীবী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠাই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।”
নাটোর-২ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী তাহামিদা ইসলাম তানিয়ার নির্বাচনী প্রতীক মাথাল। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি। ২০০৮ সালে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি কৃষক মজুর কেন্দ্রীয় সংহতি কমিটির সদস্য ও গণসংহতি আন্দোলন নাটোর জেলা কমিটির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, “নারী অধিকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করতে চাই। এটি শুধু ভোটের লড়াই নয়, বরং নারী নেতৃত্বের উপস্থিতিকে দৃশ্যমান করার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।”
সিরাজগঞ্জ-১ আসনের মল্লিকা খাতুন গণঅধিকার পরিষদ সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব। তিনি সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান এবং নির্বাচনে জয়ী হলে নদীভাঙন, কৃষিক্ষেত্রে আধুনিকায়ন ও চরাঞ্চলের উন্নয়নসহ সর্বোপরি ভাঙনকবলিত এ অঞ্চলের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের ইলোরা খাতুন জেএসডির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ও শাহজাদপুর উপজেলার আহ্বায়ক। তিনি সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চান এবং পরিবার ও পূর্বসূরিদের রাজনৈতিক প্রেরণায় রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন।
জয়পুরহাট-১ আসনের বাসদের প্রার্থী তৌফিকা দেওয়ান কাঁচি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। তিনি কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখা পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, “নারী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করা আমাদের সমাজে অনেক কঠিন। নির্বাচিত হলে সন্ত্রাস দমন ও বেকার সমস্যা সমাধানে কাজ করব।”
বগুড়া-৬ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট দিলরুবা নুরী বগুড়া জেলা বাসদের সদস্যসচিব। তিনি একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে ভোটারদের কাছে সাড়া পাচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমি একজন প্রার্থী হিসেবেও ভাবলেও একটি দলের প্রধানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। তবে আমি আশাবাদী।”
সিএ/এএ


