ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিরোধ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় নারীসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে পুরো এলাকা কিছু সময়ের জন্য রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। আতঙ্কে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলা গ্রামের ইসরাফিল মোল্লা ও তার প্রতিবেশী শাহাবুদ্দীন মোল্লার মধ্যে স্থানীয় আধিপত্য ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। উভয় পক্ষই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত মঙ্গলবার বিকেলে। পার্শ্ববর্তী ঘারুয়া ইউনিয়নের গঙ্গাধরদী গ্রামে বিএনপির একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠকে বক্তব্য দেন ইসরাফিল মোল্লা। অভিযোগ রয়েছে, বক্তব্য দীর্ঘ হওয়াকে কেন্দ্র করে শাহাবুদ্দীন মোল্লার পক্ষের এক ব্যক্তি তাকে কটাক্ষ করেন। এতে বৈঠকস্থলেই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
ওই ঘটনার জের ধরে বুধবার দুপুরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনায় কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, আহত জাহিদ মোল্লা (৩৭), ইয়াদ আলী মোল্লা (৩৫), জাকারিয়া মোল্লা (৩৭) ও লাভলী বেগম (৩৫) বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইসরাফিল মোল্লার ছেলে জাকারিয়া মোল্লা (৩৮) অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী উঠান বৈঠকে আমার বাবাকে অপমান করা হয়। আমরা প্রতিবাদ করায় পরদিন পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে শাহাবুদ্দীন মোল্লার পক্ষের আহত ইয়াদ আলী মোল্লা (৩৫) পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ইসরাফিল মোল্লার লোকজন আমাদের আত্মীয়ের চলাচলের পথ আটকে দেয়। আমরা বাধা দিতে গেলে তারা আমাদের ওপর হামলা করে।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল আলিম জানান, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সিএ/এএ


