কক্সবাজারে একদিনে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় এক কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন, এক নারীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) কক্সবাজার সদর উপজেলা ও টেকনাফে এসব ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের মনুপাড়ায় দুপুর পৌনে ২টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান কক্সবাজার সিটি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাসিব (১৭)। তিনি চৌফলদণ্ডী বাজারপাড়ার রবিউল আলমের ছেলে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (অপারেশন) মো. বাবুল মিয়া জানান, রাসিব মোটরসাইকেলে নিজ বাড়ি থেকে কক্সবাজার শহরের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে ধাক্কা দিলে তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে অজ্ঞান হয়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, রক্ত দেখার পর হঠাৎ হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে বুধবার দুপুরে কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের ঘোনার পাড়ায় নিজ বাড়ির নলকূপের পাশে বিবি আমেনা (৪৫) নামের এক নারীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি ওই এলাকার মোহাম্মদ শহিদুলের স্ত্রী।
মৃত আমেনার মেয়ে জানান, দুপুরে খাবার খেয়ে নলকূপ থেকে পানি আনতে গিয়ে তিনি মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার কপাল ও গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মৃতের স্বামী মোহাম্মদ শহিদুল বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে স্ত্রীর মরদেহ দেখতে পান।
ওসি মো. বাবুল মিয়া জানান, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছে পুলিশ।
অন্যদিকে বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া এলাকায় বাঁকখালী নদীর প্যারাবন থেকে আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
কক্সবাজার সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুবুল আলম জানান, ৯৯৯ নম্বরে পাওয়া সংবাদের ভিত্তিতে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েকদিন আগে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মরদেহের মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কাঁকড়ার ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এ ছাড়া একই দিন দুপুরে টেকনাফ স্থলবন্দরের পশ্চিমের পাহাড় থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় আনুমানিক ৩৫ বছর বয়সী আরেক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পরিচয় শনাক্তের কাজও চলছে।
সিএ/এএ


