শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষ পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে উভয়পক্ষ আরও দুটি মামলার আবেদন করেছেন।
গত মঙ্গলবার সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াতের মামলায় বিএনপির ১৮ জন এবং বিএনপির মামলায় জামায়াতের ২৯ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে নড়িয়া উপজেলা পশ্চিম জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম এবং বিএনপির পক্ষ থেকে নড়িয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি ফজলুল ওয়াহেদ খান ওরফে নিক্সন মামলার বাদী হন।
ঘটনার পরও পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। সংঘর্ষের জেরে শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে জেলা শহর, নড়িয়া উপজেলা সদর, ভোজেশ্বর বাজার ও সখিপুর থানা এলাকায় উভয়পক্ষ পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আসন্ন নির্বাচনে শরীয়তপুর-২ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী সফিকুর রহমান ও জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদ হোসেনের সমর্থকদের মধ্যেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
গত মঙ্গলবার দুপুরে শরীয়তপুর-নড়িয়া সড়কের ভোজেশ্বর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন নেতাকর্মী আহত হন। আহত জামায়াত কর্মীদের নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে সেখানে গিয়েও মারধরের অভিযোগ ওঠে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে।
সংঘর্ষের পর গত মঙ্গলবার রাতে জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপিকে দায়ী করেন জামায়াত প্রার্থী মাহমুদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে এই হামলা চালানো হয়েছে। নেতাকর্মীদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের সাতজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আমরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি এবং প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে।’
অন্যদিকে, বুধবার দুপুরে জেলা সদর হাসপাতাল ও নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে আহত বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের খোঁজ নেন বিএনপির শরীয়তপুর-২ আসনের প্রার্থী সফিকুর রহমান। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন করতে চাই। ভুল বোঝাবুঝি থাকলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যেত। সহিংসতা কোনো সমাধান নয়। নেতাকর্মীদের ধৈর্যশীল ও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছি।’
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বাহার মিয়া জানান, ‘গতকালকের সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষ দুটি মামলা করেছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এছাড়া আরও দুটি মামলার আবেদন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’
সিএ/এএ


