সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তৎপরতা বাড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এর অংশ হিসেবে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধীন সেন্টমার্টিন বিওপি এবং টেকনাফ উপজেলার লেঙ্গুরবিল এলাকায় নবনির্মিত সী-বিচ বিওপি উদ্বোধন করেছেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
এ উপলক্ষে কক্সবাজার জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভাও অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন বিজিবির কক্সবাজার রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ এবং টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে শাহপরীর দ্বীপে বিজিবি মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় কক্সবাজার জেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাহিনী। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে অর্পিত সব দায়িত্ব পালনে বিজিবি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ভোটাররা যেন নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি।’
এর আগে মঙ্গলবার সেন্টমার্টিন দ্বীপে বিজিবি মহাপরিচালক আনুষ্ঠানিকভাবে নবনির্মিত বিওপি উদ্বোধন করেন। সেখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন সৈনিক লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, মনোবল সুদৃঢ় করা এবং সামগ্রিক অপারেশনাল সক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্যে বিওপিটি নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে সেন্টমার্টিন দ্বীপের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও গতি ও কার্যকারিতা আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
পরবর্তীতে টেকনাফ উপজেলার লেঙ্গুরবিল এলাকায় নবনির্মিত সী-বিচ বিওপি উদ্বোধন করেন বিজিবি মহাপরিচালক। আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এ বিওপিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে। নতুন এই বিওপি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি সেখানে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যদের নিরাপত্তা, কর্মদক্ষতা, মনোবল এবং অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, টেকনাফ উপজেলার দক্ষিণে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সেন্টমার্টিন দ্বীপে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করত। পরে দ্বীপটির নিরাপত্তার দায়িত্ব বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সীমান্ত এলাকার গুরুত্ব ও নিরাপত্তা বিবেচনায় ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল পুনরায় সেন্টমার্টিন দ্বীপে বিজিবি মোতায়েন করা হয়। নতুন বিওপি উদ্বোধনের মাধ্যমে সেন্টমার্টিন বিওপির কার্যক্রম এখন পূর্ণাঙ্গভাবে শুরু হলো।
সিএ/এএ


