গত এক বছরে দেশজুড়ে সীমান্ত এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা মূল্যের চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত এসব অভিযানে মোট ১ হাজার ৯০৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা সমমূল্যের বিভিন্ন ধরনের অবৈধ পণ্য উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চোরাচালান প্রতিরোধে পরিচালিত অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্যও জব্দ করা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৬৪টি পিস্তল, ২টি এসএমজি, ১৯টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ১০টি রাইফেল, ৩টি রিভলভার, ৫৬টি বিভিন্ন প্রকার গান, ১ হাজার ৫০৯টি গোলাবারুদ, ৫৭টি ম্যাগাজিন, ৮টি মর্টার শেল, ৭৩ হাজার ১০০টি সীসার গুলি, ২০ দশমিক ০৫ কেজি গান পাউডার, ৪টি মাইন, ৭৯টি হাত বোমা, ৪০টি পেট্রোল বোমা, ১৭৮টি ককটেল এবং ২৫টি অন্যান্য অস্ত্র।
চোরাচালান পণ্যের তালিকায় রয়েছে ৬০ কেজি ৫৫৬ গ্রাম স্বর্ণ এবং ১৬৮ কেজি ২৪১ গ্রাম রৌপ্য। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ পোশাক, কসমেটিকস, ইমিটেশন গহনা, চিনি, চা পাতা, পিঁয়াজ, কস্টি পাথরের মূর্তি, মোবাইল ফোন, চকলেট, গরুসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য ও যানবাহন জব্দ করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে উদ্ধার করা হয়েছে ৫৫ কেজি ৬৩৬ গ্রাম হেরোইন, ১৩ কেজি ৬৪৭ গ্রাম কোকেন এবং ১ কোটি ৪৭ লাখ ১৪ হাজার ২৯৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি মদ, ফেনসিডিল, গাঁজা, নেশাজাতীয় উত্তেজক ইনজেকশন ও ক্রিস্টাল মেথ আইসসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়।
বিজিবি জানায়, মাদক পাচার ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২ হাজার ৩৩৪ জনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৪ হাজার ২৩৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক, ১২৪ জন ভারতীয় নাগরিক এবং ৭ হাজার ৩৬৮ জন মায়ানমার নাগরিককে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সূত্র: বিজিবি বিজ্ঞপ্তি
সিএ/এএ


