পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকা থেকে ২০ জন জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যুরা। বনদস্যু ‘ডন বাহিনী’র সদস্য পরিচয়ে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে সুন্দরবনের মাহমুদা নদী, চুনকুড়ি ও মালঞ্চ নদীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এসব জেলেকে অপহরণ করা হয়।
অপহরণের পর অপহৃত প্রত্যেক জেলের পরিবারের কাছে ৪০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করেছে দস্যুরা। শনিবার সকালে সুন্দরবন থেকে ফিরে আসা জেলেদের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
ফিরে আসা জেলেরা জানান, দস্যু দলের নেতৃত্বে ছিলেন ভেটো শফিকুল ও শাহাজান। তারা এর আগে র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেও গত তিন মাস ধরে পুনরায় ‘ডন বাহিনী’ পরিচয়ে দস্যুতা শুরু করেছে।
অপহৃত জেলেদের মধ্যে ১২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন সাদেক আক্কাস, আবু তাহের, রাজেত আলী, নজরুল গাইন, শুকুর আলী, আবুল কালাম, আশিকুল, হাফিজুর, আসাদুল, আমজাদ আলী, ইউসুফ আলী ও মিলন হোসেন। তারা সবাই সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। বাকি আটজনের পরিচয় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি।
জানা গেছে, অপহরণের শিকার জেলেরা আট-নয় দিন আগে সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশন থেকে অনুমতিপত্র (পাস) নিয়ে সুন্দরবনে মাছ ধরতে যান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফিরে আসা জেলেরা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে দোবেঁকী কোস্টগার্ড অফিসসংলগ্ন এলাকা ও বিভিন্ন খাল থেকে ২০টি নৌকা থেকে একজন করে জেলেকে তুলে নেয় আট সদস্যের একটি দস্যু দল। পরে একটি মুঠোফোন নম্বর দিয়ে ওই নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়।
অপহৃত জেলেদের স্বজনেরা জানান, দস্যুদের দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করলে প্রত্যেকের জন্য ৪০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পুলিশ বা কোস্টগার্ডকে জানালে অপহৃতদের হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ কারণে অনেক পরিবার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে না জানিয়ে আপসের মাধ্যমে মুক্তিপণ কমানোর চেষ্টা করছে।
হরিনগর গ্রামের এক মহাজন আকরাম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, গত তিন মাসের বেশি সময় ধরে সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় জলদস্যু তৎপরতা বাড়লেও তা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, তার স্টেশন থেকে পাস নিয়ে বনে যাওয়া কয়েকজন জেলে দস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অনুমতি সাপেক্ষে অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান বলেন, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত এ বিষয়ে কেউ তাকে জানায়নি। তবে তিনি বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছেন।
সিএ/এএ


