প্রার্থীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণার সময় এখনো শুরু হয়নি। নির্বাচন কমিশন থেকেও এখনো প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। তবে এসবের আগেই সরগরম হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের নির্বাচনী মাঠ। বিশেষ করে প্রতীক ঘিরে দুই আলোচিত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ভোটের মাঠে বাড়তি উত্তাপ ছড়াচ্ছে।
এই আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দলীয়ভাবে তিনি খেজুর গাছ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রুমিন ফারহানা জানিয়েছেন, তিনি ‘হাঁস’ প্রতীক চাইবেন। মূলত এই প্রতীক নিয়েই দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রকাশ্য বাহাস শুরু হয়েছে। জুনায়েদ আল হাবিব বিভিন্ন সভা ও সমাবেশে খেজুর গাছ প্রতীককে ধানের শীষের সঙ্গে তুলনা করে বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সেটিকে ধানের শীষ ভেবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও আশুগঞ্জ এলাকায় একাধিক আয়োজনে তিনি বলেন, ‘আমি এমপি হবো ইনশাআল্লাহ, আপনারা সবাই মিলে যদি আমার খেজুরগাছটাকে ধানের শীষ বানান। ধানের মার্কা নিয়ে যদি আপনাদের একজন দাঁড়াতেন, তার জন্য যেভাবে কাজ করতেন আপনারা যদি সেভাবে কাজ করেন। আমি পাস করলে বিএনপি পাস।’
এই বক্তব্যের জবাবে রুমিন ফারহানা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, ‘খেজুরগাছ হলো মরুভূমির, এটা আবার ধান হয় কিভাবে। আর ধান তো হলো আমাদের প্রাণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘এলাকার মানুষের আশা ছিল দলীয় প্রার্থী দেবে। এখন প্রার্থী ভাড়া করে আনতে হলো। আর এখন শুনতে হয় খেজুরগাছই নাকি ধান। খেজুরগাছ আবার ধান হয় কিভাবে। ধান হলো আমাদের প্রাণ। আমি যদি কই হাঁসই হইল বাঘ, তাইলে কী হইব? হাঁস হইল হাঁস। বাঘ হইল বাঘ।’
প্রতীক নিয়ে এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ভোটের মাঠে আগেভাগেই রাজনৈতিক আলোচনা ও কৌতূহল বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সিএ/এএ


