নির্বাচনী আইন সংশোধনের পর ভোটারপ্রতি ১০ টাকা বা সর্বনিম্ন ২৫ লাখ টাকা—যেটি বেশি, সেটিকে পটুয়াখালী-৪ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী ব্যয়সীমা হিসেবে নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কাগজে-কলমে এই আসনে প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবে। তবে প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা গেছে, এই আসনের সম্ভাব্য ব্যয় ইতিমধ্যেই নির্ধারিত সীমার বাইরে গেছে।
জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ৭৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচনী ব্যয়সীমা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বেআইনি কর্মকাণ্ডের দায়ী হবেন। এ ক্ষেত্রে ন্যূনতম দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। যদিও প্রার্থীরা বলছেন, হলফনামায় সম্ভাব্য ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে এবং নির্বাচনের পর কমিশনে দাখিলকৃত প্রকৃত ব্যয় সীমার মধ্যে থাকবে।
পটুয়াখালী-৪ আসন কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলার সঙ্গে দুটি পৌরসভা এবং ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা দুই লাখ ৪৯ হাজার ৩৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ২৪ হাজার ৭৮৫ এবং নারী ভোটার এক লাখ ২৪ হাজার ২৫০। ইসির বিধান অনুযায়ী ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা ব্যয়ের হিসাব ধরা হলে ব্যয়সীমা দাঁড়ায় ২৪ লাখ ৯ হাজার ৩৫ টাকা। তবে আইনে সর্বনিম্ন ২৫ লাখ টাকা নির্ধারিত থাকায় প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারবে।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, বৈধ পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে অন্তত দুজন নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি ব্যয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। দুজনই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান। তাঁদের একজন ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালী-৪ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
রাঙ্গাবালী উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ডা. জহির উদ্দিন আহম্মেদ এই নির্বাচনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, চিকিৎসা পেশা ও সম্পত্তি থেকে আয় মিলিয়ে তিনি ৩১ লাখ টাকা নির্বাচনী ব্যয় করবেন। তার কৃষি ও অকৃষি জমির মূল্য চার কোটি ৯০ লাখ টাকা, তবে জমি থেকে বার্ষিক আয় মাত্র এক লাখ ২০ হাজার টাকা। চিকিৎসা পেশা থেকে বার্ষিক আয় চার লাখ ৫০ হাজার টাকা।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, নিজের তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা এবং দলীয় কর্মীদের অনুদান থেকে ১০ লাখ টাকা মিলিয়ে মোট ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। তাঁর কৃষি ও ব্যবসা থেকে বার্ষিক আয় প্রায় আট লাখ টাকা। স্থাবর সম্পদ ৭৬ লাখ টাকা এবং অস্থাবর ৭৯ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩০ লাখ টাকার সম্পদ।
বিএনপির প্রার্থী এ বি এম মোশাররফ হোসেন ২৫ লাখ টাকা ব্যয় দেখিয়েছেন। তাঁর নামে কোটি টাকা মূল্যের বাড়ি ও ব্যাংকে ৫৭ লাখ টাকা জমা আছে। কৃষি, ব্যবসা ও শেয়ার থেকে বার্ষিক আয় প্রায় সাত লাখ টাকা। নিজের নামে স্থাবর সম্পদ দুই কোটি ৬১ লাখ টাকা। চাকরিজীবী স্ত্রীর নামে সম্পদ এক কোটি ৬৯ লাখ টাকা।
গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. রবিউল হাসান বয়সে সবচেয়ে তরুণ। ৩০ বছর বয়সী ব্যবসায়ী প্রার্থীর নগদ অর্থ ২৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। আয়কর রিটার্নে মোট সম্পদ ২৮ লাখ ৩৩ হাজার টাকা এবং বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। তিনি ব্যবসা থেকে ২০ লাখ টাকা নির্বাচনী ব্যয়ে ব্যবহার করবেন। এছাড়া ভগ্নিপতির কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা ধার নেওয়ার কথা উল্লেখ আছে।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আবদুল কাইউয়ের মোট সম্পদ ২৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। শিক্ষকতা পেশা থেকে বার্ষিক আয় ছয় লাখ ৩৫ হাজার টাকা। নির্বাচনী ব্যয় হিসেবে তিনি দুই লাখ টাকা দেখিয়েছেন। এছাড়া দুই স্বজনের কাছ থেকে সাত লাখ টাকা ধার এবং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এক লাখ টাকা অনুদান নেওয়ার কথা উল্লেখ আছে।
সূত্র: প্রার্থী দাখিলকৃত হলফনামা
সিএ/এএ


