Saturday, June 13, 2026
30.4 C
Dhaka

হ্যালো ডিয়ার আইডিয়াল গার্ডিয়ানস!

হাসান ইনাম

সন্তান! সন্তান আপনাদের কাছে অমূল্য রতন। নবজাতক শিশু থেকে ধীরে ধীরে কোলে-কাঁখে করে বড় করেছেন সন্তানকে। কখনও অভাব বুঝতে দেননি। সাধ্যমত আবদার পূরণ করেছেন। আদর আর ভালোবাসা দিয়ে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন। আপনাদেরই সন্তান। আপনাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম। পড়ালেখা করিয়েছেন। আলাদা প্রাইভেট-কোচিং। সংসারে টানাটানি চললেও নিয়ম করে চুকিয়েছেন সন্তানের টিউশন ফি। কোনও কিছুর কমতি রাখেননি। সেই সন্তান যখন কোনও পাবলিক এক্সামে অংশগ্রহণ করে তখন স্বভাবতই আপনি বাড়তি কিছু আশা করেন। অন্যদের তুলনায় আপনার সন্তান ভালো করবে। আপনার মুখ উজ্জ্বল করবে। এটা অমূলক নয়। এই চাওয়া আপনার অধিকার। আপনার সন্তান, আপনার অধিকার।

কিন্তু এই বাড়তি চাওয়াটা কী ঠিক? আপনার পাশের ডেস্কের জলিল সাহেবও তো সন্তানের পিছনে কষ্ট করছেন। লাঞ্চে খরচ কমিয়ে মেয়ের বই কিনছে। পাশের ফ্ল্যাটের লাভলি ভাবিও তো গত মাসের মার্কেট বাদ দিয়েছেন ছেলের জন্য। আপনার মতো কষ্ট তো তাঁরাও করছে। সবাই করছে। কেউ আপনার থেকেও বেশি করছে। তারাও সন্তানের দিকে তাকিয়ে বাড়তি স্বপ্ন দেখছে। আপনিও দেখছেন। সবাই যখন এগিয়ে যেতে চাচ্ছে। কেউ কেউ তো পিছিয়ে পড়বেই। পড়তেই হবে। নাকি?

সময়টা এখন প্রতিযোগিতার। পার্সোনাল লাইফ বলেন আর কর্পোরেট লাইফ বলেন। সবখানেই সবাই চাচ্ছে একজন আরেকজনের থেকে এগিয়ে যেতে। এক বিন্দু হলেও এগিয়ে থাকতে। এই সমস্যা আপনার একার না। সমস্যা সমাজের, রাষ্ট্রের। তাহলে আপনার কী করণীয় এখন? সন্তানকে আর চাপ দিবেন না? পড়তে বসতে বাধ্য করবেন না?
করবেন। সব করবেন। জাস্ট আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নটা বাদ দিবেন। আপনার সন্তান ভালো করবে এরকম একটা বিশ্বাস পুষে রাখেন। বারান্দার টবে আত্মবিশ্বাসের চারা বুনন করেন। তারপর পরিচর্যা করতে থাকেন। অপেক্ষায় থাকুন ফুল ফোটার। সুগন্ধি একটি ফুল। ভালো ফুল। কিন্তু এই ফুলটিই বিশ্বের এক নম্বর ফুল হবে এমন স্বপ্ন দেখা বাদ দিন।

আপনার ভাই ব্যাংকক থেকে নেকলেস পাঠিয়েছে। শ্বশুর বাড়ী থেকে দুই বিঘা জমি পেয়েছেন। এসব শো অফ করেন। সমস্যা নেই। কিন্তু আপনার সন্তান অমুক কলেজে পড়ে এগুলো বলে শো অফ করার দরকার নেই। কলেজ হয়তো ফ্যাক্ট। কিন্তু সময় তো এখন প্রতিযোগিতার। আপনি খুব গর্ব করে বন্ধুর সামনে বললেন আপনার সন্তানের কলেজের কথা। আপনার বন্ধু মুচকি হেসে চলে গেলো। এই মুচকি হাসির মানে কী জানেন? আপনার বন্ধুর সন্তান ভালো কলেজে চান্স পায়নি। আজ বাসায় গিয়ে সন্তানকে নিকুচি করে বলবে ‘তোকে দিয়ে কিসসু হবে না’। তারপর ছেলেটা বা মেয়েটা ভাবতে থাকবে আসলেই তাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না। ভিতরে ভিতরে মরে যাবে। মৃতদেহ নিয়ে ঘুরতে থাকবে। এই ঠান্ডা মাথার খুনি কিন্তু আপনি। তাই একটু ভেবে চিন্তে।

লেখকঃ শিক্ষার্থী,
দারুননাজাত সিদ্দিকিয়া কামিল মাদরাসা

spot_img

আরও পড়ুন

নিখোঁজের একদিন পর অচেতন অবস্থায় উদ্ধার ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা

নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের...

খাঁচাবন্দী নয়, বন্য পাখিদের মধ্যেই বেশি স্বমেহনের প্রবণতা

পাখিদের মধ্যে স্বমেহন বা হস্তমৈথুন কোনো অস্বাভাবিক আচরণ নয়,...

বার কাউন্সিলের এমসিকিউ পরীক্ষার ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৯২০১

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের এমসিকিউ পরীক্ষার...

৫৩০০ বছরের পুরোনো মমিতে মিলল জীবন্ত অণুজীবের অস্তিত্ব

প্রায় ৫ হাজার ৩০০ বছর আগে আল্পস পর্বতমালার একটি...

বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস লিখলেন মেক্সিকোর ১৭ বছরের মোরা

বদলি হিসেবে মাঠে নেমেই ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের নাম...

সুন্নতে মুআক্কাদা নামাজ ছুটে গেলে কাজা আদায় করতে হবে কি?

অসুস্থতা, ঘুম, ভুলে যাওয়া বা অন্য কোনো কারণে নামাজ...

পিরিয়ড বন্ধ রাখতে ওষুধ খাওয়া কতটা নিরাপদ?

গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণ, পারিবারিক অনুষ্ঠান, উৎসব বা বিশেষ কোনো পরিকল্পনার...

ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডায় কোটি কোটি বিশেষ মশা ছাড়তে চায় গুগল

ডেঙ্গু, জিকা, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে...

কোরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলামের মৌলিক লক্ষ্য কী

ইসলামকে মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী মানবজাতির জন্য আল্লাহর মনোনীত পূর্ণাঙ্গ...

দুর্যোগ মোকাবিলায় ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের প্রস্তাব

সম্ভাব্য বড় ধরনের ভূমিকম্প ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি...

মানিব্যাগে এই ৫ জিনিস রাখলে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারেন

মানিব্যাগ সাধারণত অর্থ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার...

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে স্কেলের ঘোষণা, কার্যকর হবে ১ জুলাই থেকে

দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন...

কুকুর মসজিদে ঢুকলে কি স্থান অপবিত্র হয়ে যায়?

মসজিদে কোনো কুকুর প্রবেশ করলে বা বারান্দায় এসে বসলে...

এআই দিয়ে তৈরি বিশ্বের প্রথম ভ্যাকসিন মানবদেহে পরীক্ষায় সফল

ভবিষ্যতের মহামারী মোকাবিলায় চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে কৃত্রিম...
spot_img

আরও পড়ুন

নিখোঁজের একদিন পর অচেতন অবস্থায় উদ্ধার ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা

নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান প্রধানকে কুমিল্লার লাকসাম থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাকে গুরুতর...

খাঁচাবন্দী নয়, বন্য পাখিদের মধ্যেই বেশি স্বমেহনের প্রবণতা

পাখিদের মধ্যে স্বমেহন বা হস্তমৈথুন কোনো অস্বাভাবিক আচরণ নয়, বরং এটি তাদের স্বাভাবিক যৌন আচরণেরই অংশ বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে,...

বার কাউন্সিলের এমসিকিউ পরীক্ষার ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ৯২০১

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের এমসিকিউ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ৯ হাজার ২০১ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। শুক্রবার বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের...

৫৩০০ বছরের পুরোনো মমিতে মিলল জীবন্ত অণুজীবের অস্তিত্ব

প্রায় ৫ হাজার ৩০০ বছর আগে আল্পস পর্বতমালার একটি অঞ্চলে নিহত হওয়া ‘উতজি দ্য আইসম্যান’ নামে পরিচিত প্রাচীন এক মমির দেহে এখনও সক্রিয় অণুজীবের...
spot_img