সিরাজগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা পৃথক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৩৭৭ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
সোমবার (৪ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতের বিচারক সুমন কুমার কর্মকার এ আদেশ দেন বলে নিশ্চিত করেন কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক রওশন ইয়াজদানী।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের মধ্যে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক শীর্ষ নেতা রয়েছেন। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কে এম হোসেন আলী হাসান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ তালুকদার, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব কবীর বিন আনোয়ার অপু, সিরাজগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাত মুন্না, সিরাজগঞ্জ পৌরসভার অপসারিত মেয়র সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা, সদর উপজেলা পরিষদের অপসারিত চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিনসহ আরও অনেকে রয়েছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, যুবদল নেতা সোহানুর রহমান রঞ্জু হত্যা মামলায় মোট ১৯৫ জন আসামি রয়েছে। এর মধ্যে ৭০ জন জামিনে থাকলেও শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ১২৫ জন পলাতক রয়েছেন। অপরদিকে বিএনপি কর্মী আব্দুল লতিফ হত্যা মামলায় ১৭৮ জন আসামির মধ্যে ৪৫ জন জামিনে এবং ১৩৩ জন পলাতক রয়েছেন। একইভাবে সুমন শেখ হত্যা মামলায় ১৭৬ জন আসামির মধ্যে ৫৭ জন জামিনে এবং ১১৯ জন পলাতক রয়েছেন।
সব মিলিয়ে তিনটি মামলায় পলাতক আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭৭ জনে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সিরাজগঞ্জ শহরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতায় জেলা যুবদলের সহসভাপতি সোহানুর রহমান রঞ্জু, বিএনপি কর্মী আব্দুল লতিফ ও সুমন শেখ নিহত হন। এ ঘটনায় পৃথকভাবে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা মামলা দায়ের করেন।
পরে তদন্ত শেষে সদর থানা পুলিশ ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর আদালতে তিনটি মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করে। অভিযোগপত্রে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ মোট ৫৪৯ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়।
সিএ/এমই


