আধুনিক নগর জীবনে চারপাশ আলোয় ভরপুর থাকলেও অন্ধকারের প্রতি মানুষের স্বাভাবিক ভীতি আজও পুরোপুরি কাটেনি। অন্ধকার নামলেই অনেকের মনে অজানা আশঙ্কা কাজ করে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ভয় কোনো দুর্বলতা নয়; বরং মানুষের টিকে থাকার প্রাচীন এক প্রতিরক্ষামূলক প্রবৃত্তির অংশ।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের মস্তিষ্ক অন্ধকার পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করে। বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষের পূর্বপুরুষরা এমন পরিবেশে বসবাস করতেন, যেখানে রাতের বেলা বিপদের আশঙ্কা বেশি ছিল। সীমিত দৃষ্টিশক্তির কারণে অন্ধকারে সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় সতর্কতা বাড়ানোই ছিল তাদের বেঁচে থাকার কৌশল।
গবেষণায় আরও বলা হয়, প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই সতর্কতামূলক আচরণ আজও মানুষের মধ্যে সক্রিয় রয়েছে। পরিবেশে বিপদের মাত্রা কমে গেলেও মস্তিষ্ক সেই পুরোনো প্রতিক্রিয়াকে ধরে রেখেছে। বিশেষ করে দৃশ্যমানতা কমে গেলে মানুষ বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির প্রতি দ্রুত সাড়া দেয়।
অন্ধকারে মানুষের মস্তিষ্ক তথ্যের ঘাটতি পূরণ করতে নিজেই কল্পনা তৈরি করে। গবেষণা বলছে, দৃশ্যমান তথ্য না থাকলে মস্তিষ্ক প্রায়ই নেতিবাচক বা ভয়াবহ পরিস্থিতি কল্পনা করে নেয়। পাশাপাশি শব্দের প্রতি সংবেদনশীলতা বাড়ে, যা উদ্বেগকে আরও তীব্র করে তোলে।
মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, আধুনিক নিরাপদ পরিবেশেও অন্ধকারের ভয় টিকে থাকার কারণ হলো অতীত প্রবৃত্তি ও বর্তমান বাস্তবতার মধ্যে অসামঞ্জস্যতা। এছাড়া সংস্কৃতি, গল্প, সিনেমা ও গণমাধ্যমে অন্ধকারকে বিপদের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা এই ভীতিকে আরও জোরদার করে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভয় কাটানো সম্ভব। কেউ যদি বুঝতে পারেন যে এটি কেবল একটি প্রাচীন প্রতিক্রিয়া, তবে ধীরে ধীরে অন্ধকারের মুখোমুখি হওয়ার মাধ্যমে সেই ভীতি কমিয়ে আনা যায়।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
সিএ/এমআর


