মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রবিরবাজারে জলাবদ্ধতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বাজার ও আশপাশের এলাকা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দোকান ও ভবনের সামনে থেকে পাকা সড়ক পর্যন্ত ঢালাই করে ড্রেন বন্ধ করে দেওয়ায় জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে নোংরা পানি সড়ক উপচে দোকানে ঢুকে পড়ছে, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক ব্যবসা-বাণিজ্য।
প্রায় দুই শত বছরের পুরোনো রবিরবাজার কুলাউড়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রধান ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই বাজারে রয়েছে প্রায় দুই হাজার দোকানপাট, মসজিদ, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, ব্যাংক, হাসপাতাল, ভূমি অফিসসহ নানা প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয়রা জানান, এলজিইডি ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় সড়ক নির্মাণ হলেও এখনো স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই বাজারের বিভিন্ন অংশে পানি জমে থাকে এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
এছাড়া বাজারের ভেতরে অবৈধভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজি স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় যানজটও নিত্যদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ, ড্রেন না রাখা এবং ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনার অভাবে পরিবেশও মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে আধুনিক কাঁচা বাজার শেড না থাকা এবং কিছু কাঠামো জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকায় ঝুঁকির মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করতে হচ্ছে। ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন স্থানে।
রবিরবাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. মাসুক আহমদ বলেন, ‘রবিরবাজার কুলাউড়ার অন্যতম বৃহৎ ব্যবসাকেন্দ্র। পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে বড় উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি আমরা সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি।’
এলজিইডি কুলাউড়া উপজেলা কার্যালয়ের প্রকৌশলী প্রীতম শিকদার জয় বলেন, পূর্ব রবিরবাজারে জরুরি আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ চলছে। এটি শেষ হলে নতুন প্রকল্পে স্থায়ী ড্রেন নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আক্কাছ আলী জানান, সড়ক উন্নয়ন কাজ চলমান থাকলেও জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় ড্রেন ও সড়ক প্রশস্তকরণে কিছুটা বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিউদ্দিন বলেন, রবিরবাজারের উন্নয়নে একটি সমন্বিত বৃহৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সবাই সহযোগিতা করলে জলাবদ্ধতা ও যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু করা না হলে আগামী বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
সিএ/এমই


