কোরআনে পিতৃত্বের ধারণা নানা দৃষ্টান্তের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে আদর্শ পিতার গুণাবলি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। এসব গুণ পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
প্রথমত, আদর্শ পিতার মধ্যে কল্যাণ ও সততা থাকতে হয়। কোরআনে নুহ, ইব্রাহিম, ইয়াকুব ও লোকমান (আলাইহিমুস সালাম)-এর উদাহরণে সৎ পিতৃত্বের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে অসৎ পিতার উদাহরণও উল্লেখ করে বোঝানো হয়েছে যে পিতৃত্বের ভিত্তি হলো নৈতিকতা।
দ্বিতীয়ত, সন্তান লালন-পালনে সক্রিয় অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। কোরআনের বিভিন্ন ঘটনায় দেখা যায়, পিতারা সন্তানের শিক্ষা ও উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা পালন করেছেন এবং তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করেছেন।
তৃতীয়ত, পিতৃত্বের সঙ্গে ত্যাগ ও কষ্ট সহ্য করার বিষয়টি গভীরভাবে জড়িত। সন্তানদের সঠিক পথে আনতে পিতাদের ধৈর্য ও আত্মত্যাগের উদাহরণ কোরআনে বারবার এসেছে।
চতুর্থত, সন্তানদের সঙ্গে সংলাপ ও যুক্তির মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া আদর্শ পিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কোরআনে এমন কোনো নির্দেশ নেই যেখানে জোরজবরদস্তি বা কঠোরতা প্রয়োগের কথা বলা হয়েছে।
পঞ্চমত, সন্তানদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করার মানসিকতা একজন পিতার বড় গুণ। ধৈর্য ও সহানুভূতির মাধ্যমে সন্তানদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়।
সামগ্রিকভাবে কোরআন পিতৃত্বকে একটি দায়িত্বশীল ও নৈতিক ভূমিকা হিসেবে উপস্থাপন করেছে, যেখানে ভালোবাসা, শিক্ষা ও সহমর্মিতা প্রধান উপাদান।
সিএ/এমআর


