অজু করার সময় বিভিন্ন অঙ্গ ধোয়ার সঙ্গে আলাদা আলাদা দোয়া পড়ার একটি প্রচলিত রীতি সমাজে দেখা যায়। তবে ইসলামি শরিয়তের আলোকে এ ধরনের নির্দিষ্ট দোয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না বলে জানিয়েছেন আলেমরা।
তাদের মতে, মহানবী (সা.) ও তাঁর সাহাবিদের কাছ থেকে অজুর সময় প্রতিটি অঙ্গ ধোয়ার জন্য আলাদা কোনো দোয়া পড়ার প্রমাণ নেই। তাই এটিকে সুন্নাহ হিসেবে গণ্য করা সঠিক নয়।
ইমাম নববি লিখেছেন, “অজুর অঙ্গগুলো ধোয়ার সময় পড়ার মতো কোনো দোয়া বা জিকির আল্লাহর রাসুল থেকে প্রমাণিত হয়নি।” (ইমাম নববি, আল-আজকার, ১/২৮)
অজুর শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা অধিকাংশ আলেমের মতে সুন্নাহ। তবে অজুর মাঝখানে দীর্ঘ দোয়া পড়ার বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন ইমাম ইবনুল কাইয়িম। তিনি বলেন, “মহানবী এর কিছুই বলেননি এবং তাঁর উম্মতকেও শিক্ষা দেননি।”
অজু শেষ করার পর নির্দিষ্ট কিছু দোয়া প্রমাণিত রয়েছে। হাদিসে এসেছে, “তোমাদের কেউ যদি সুন্দরভাবে অজু করার পর পাঠ করে: ‘আশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু’, তবে তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হবে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৩৪)
সুনানে তিরমিজির বর্ণনায় এ দোয়ার সঙ্গে আরও একটি অংশ যোগ করা হয়েছে, যেখানে পবিত্রতার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়।
ইসলামের মূল শিক্ষা অনুযায়ী, ইবাদতের ক্ষেত্রে নতুন কোনো রীতি সংযোজন বা পরিবর্তন করা অনুমোদিত নয়। বরং কোরআন ও সুন্নাহর নির্ভরযোগ্য নির্দেশনা অনুসরণ করাই একজন মুসলমানের জন্য উত্তম পথ।
সিএ/এমআর


