গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের উদ্ভাবিত নতুন আউশ ধানের জাত ‘জিএইউ ধান-৪’ স্বল্প সময়ের মধ্যে উচ্চ ফলন দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এক দশকের বেশি সময় ধরে গবেষণার পর সম্প্রতি জাতীয় বীজ বোর্ড এই জাতটির অনুমোদন দিয়েছে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় ‘জিএইউ ধান-৪’ আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়। এর মাধ্যমে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত ধানের জাতের সংখ্যা বেড়ে চারটিতে দাঁড়িয়েছে।
কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. ময়নুল হক ও অধ্যাপক ড. মো. মসিউল ইসলামের নেতৃত্বে এই জাতটি উদ্ভাবন করা হয়। গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, পানি সংকট এবং স্বল্প উৎপাদনশীল জাতের কারণে আউশ মৌসুমে কৃষকরা নানা সমস্যার মুখে পড়েন। ‘জিএইউ ধান-৪’ এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ড. এম. ময়নুল হক বলেন, ‘এই জাত দ্রুত পরিপক্ব হয়, ফলে কৃষক অল্প সময়ের মধ্যে জমি খালি করে পরবর্তী ফসল আবাদ করতে পারেন। এতে একই জমিতে বছরে তিন থেকে চারটি ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়।’ তিনি আরও বলেন, কম পানির প্রয়োজন হওয়ায় খরাপ্রবণ এলাকাতেও এটি চাষযোগ্য।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বীজ বপনের পর মাত্র ৩ মাস থেকে ৩ মাস ১০ দিনের মধ্যেই এই ধান কাটা যায়। অনুকূল পরিবেশে হেক্টরপ্রতি ৫ থেকে সাড়ে ৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। প্রতি হেক্টরে ২৫ থেকে ৩০ কেজি বীজ প্রয়োজন হওয়ায় উৎপাদন খরচও তুলনামূলক কম।
অধ্যাপক ড. মো. মসিউল ইসলাম জানান, দেশে চিকন চালের চাহিদা বাড়তে থাকায় ‘পারিজা’ ও ‘বিইউ ধান-২’ জাতের সংকরায়নের মাধ্যমে এই নতুন জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। প্রায় ১০ বছর ধরে গবেষণা মাঠে পরীক্ষা চালানোর পর বিভিন্ন অঞ্চলে এর অভিযোজন সক্ষমতা যাচাই করা হয়। ২০২৪ সালে দেশের ১০টি অঞ্চলে মাঠ পর্যায়ে মূল্যায়নের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করা হয়।
পুষ্টিগুণের দিক থেকেও ‘জিএইউ ধান-৪’ গুরুত্বপূর্ণ। এতে প্রায় ২৪.৫৮ শতাংশ অ্যামাইলেজ এনজাইম রয়েছে, যা শর্করা ভাঙতে সহায়তা করে এবং শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়। পাশাপাশি প্রায় ৮.৩৮ শতাংশ প্রোটিন থাকায় এটি মানবদেহের গঠন ও কোষ মেরামতে সহায়ক।
গবেষকরা আশা করছেন, এই জাতটি বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের মঙ্গাপীড়িত এলাকায় কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। স্বল্প সময়ে ফসল ঘরে তোলার সুযোগ থাকায় কৃষকের আর্থিক চাপ কমবে এবং উৎপাদনশীলতা বাড়বে।
সিএ/এএ


