চৈত্রের শেষ দিকে এসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করেছে। ঝাঁজালো রোদ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ১৫ জেলায় বর্তমানে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আরও দুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনাসহ খুলনা বিভাগের ১০ জেলাসহ মোট ১৫টি জেলায় তাপপ্রবাহ চলছে। এসব এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে।
আবহাওয়ার শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, কোনো এলাকায় তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মৃদু তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি হলে মাঝারি, ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি হলে তীব্র এবং ৪২ ডিগ্রির বেশি হলে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ ধরা হয়।
আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান তাপপ্রবাহ আরও দুদিন থাকতে পারে। তবে ৬ এপ্রিলের পর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে।’ তিনি জানান, এর আগে পর্যন্ত তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসে এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি দুই থেকে চারটি মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে ২০২৪ সালের মতো দীর্ঘ সময় ধরে টানা তাপপ্রবাহ চলার আশঙ্কা কম বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, এবারের এপ্রিল মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিক বা তার কাছাকাছি থাকলেও গরমের তীব্র অনুভূতি বজায় থাকবে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, ঢাকা, সিলেট ও বরিশালের কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহ বেশি অনুভূত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, মাসজুড়ে একাধিক বজ্রঝড় হতে পারে, যা সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কমাতে পারে।
রাজধানী ঢাকাতেও তাপমাত্রা বেড়েছে। শনিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গরমে পথচারী ও শ্রমজীবী মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্যত্র আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়, ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেটে, ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সিলেটে সর্বোচ্চ ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গায় টানা তাপপ্রবাহে ভোগান্তি বেড়েছে। সকাল থেকেই তীব্র রোদে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ছে। ঘরের বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে অনেকের জন্য। শ্রমজীবী মানুষ জীবিকার তাগিদে কাজ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন।
ভ্যানচালক আবুল হোসেন বলেন, ‘গরমে চলতি পারছি না। ভাড়াও নেই। এই রোদে কেমনে চলব? বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেশি, খামু কী?’ সিএনজিচালক কেরামত আলী বলেন, ‘রাস্তায় বের হলেই মনে হয় কড়ার ওপর বসে আছি। যাত্রীও কম।’
কৃষক আতিয়ার রহমান জানান, ভোরে কাজ শুরু করলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। ‘ভুট্টার জমিতে কাজ করছিলাম। কিন্তু রোদে হাঁপিয়ে উঠেছি,’ বলেন তিনি।
অন্যদিকে গরমে ঠান্ডা পানীয়ের চাহিদা বেড়েছে। শরবত বিক্রেতা নওশাদ আলী জানান, লেবুর শরবতের বিক্রি বেড়েছে। মানুষ গরম থেকে বাঁচতে বেশি করে ঠান্ডা পানীয় গ্রহণ করছেন।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল ৩টায় জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ২৬ শতাংশ। আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সিএ/এএ


