মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে থাকায় পাকিস্তানেও এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাতারাতি দেশটিতে পেট্রোলের দাম ৪৩ শতাংশ এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।
পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারি কোষাগারে সীমিত সম্পদ এবং চলমান যুদ্ধের অনিশ্চয়তার কারণে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি ধরে রাখা সরকারের পক্ষে ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।
জ্বালানির বড় অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল পাকিস্তান, যার উল্লেখযোগ্য অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসে। সম্প্রতি ইরানের নিয়ন্ত্রণে এই গুরুত্বপূর্ণ রুট কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। তবে পাকিস্তান সরকারের দাবি, ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পাকিস্তানি পতাকাবাহী জাহাজগুলোর জন্য নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর এটি দেশটিতে দ্বিতীয় দফায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। সব মিলিয়ে সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় বর্তমানে পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম বেড়েছে প্রায় ৭৭ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম বেড়েছে ৮৭ শতাংশ।
এদিকে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কিছুটা কমাতে সীমিত পরিসরে ভর্তুকি ঘোষণা করেছে সরকার। মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা আগামী তিন মাস পর্যন্ত প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ২০ লিটার পেট্রোলে প্রতি লিটারে ১০০ রুপি করে ভর্তুকি পাবেন। পাশাপাশি আন্তঃনগর বাস ও গণপরিবহনের জন্য লিটার প্রতি ১০০ রুপি ভর্তুকি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং যাত্রীবাহী বাস সার্ভিসের জন্য মাসে সর্বোচ্চ এক লাখ রুপি পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হবে।
পণ্যবাহী যানবাহনের ক্ষেত্রেও ভর্তুকি নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্রাকসহ এ ধরনের যানবাহনের জন্য মাসে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার রুপি পর্যন্ত জ্বালানি সহায়তা দেওয়া হবে। কৃষিখাতে ক্ষুদ্র চাষিদের জন্য ফসল কাটার মৌসুমে এককালীন একর প্রতি এক হাজার ৫০০ রুপি অর্থ সহায়তার ঘোষণাও দিয়েছে সরকার।
এছাড়া রেলের ভাড়া নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাকিস্তান রেলওয়েকে বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বড় পরিসরে স্বস্তি দেওয়া সম্ভব নয়।
পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব এক বিবৃতিতে বলেছেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সরকারের পক্ষে বড় ধরনের কোনো স্বস্তি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। যেকোনো ছাড় বা ভর্তুকি কেবলমাত্র একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই পুরো পরিস্থিতি প্রতি সপ্তাহে পর্যালোচনা করা হবে এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে বলেও জানান তিনি।
সিএ/এএ


