রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। মোহনপুরের ছয় মাস বয়সী শিশু ইভা সামান্য জ্বরে মা-বাবার সঙ্গে গত শুক্রবার হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে জ্বরের পাশাপাশি তার গায়ে হাম দেখা দেয়। বর্তমানে শিশুটি হাম ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার থেকে আইসোলেশন ওয়ার্ড, অর্থাৎ হাম ওয়ার্ডে রোগী রাখা শুরু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ল্যাব টেস্ট অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগে ২৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৭৭ জনকে হাম পজিটিভ পাওয়া গেছে। সংক্রমণের হার ৩১ দশমিক ৩০ শতাংশ, যা গত ৮ দিনে ২.৩০ শতাংশ বেড়েছে।
হামের প্রকোপ ও আইসোলেশন ব্যবস্থা:
- চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও পাবনায় সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি।
- রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শিশু ওয়ার্ডে ২০০ শয্যা থাকা সত্ত্বেও ঈদের আগে ৭০০-এর বেশি রোগী ভর্তি হয়েছিল।
- হাসপাতালে নতুন ৩০ নম্বর ওয়ার্ডটি হাম রোগীদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ডে পরিণত করা হয়েছে। আজ সেখানে ২৬ জন রোগী ভর্তি।
- আইসিইউ সুপারিশের পরেও চার শিশুর মধ্যে তিনজন মারা গেছেন।
পাশাপাশি পরিবারের বর্ণনা:
- চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিশুরা, যেমন ইশরাত ও এহিয়া, হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ড থেকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
- অনেক শিশু হাসপাতালে আসার পর নতুনভাবে হামের উপসর্গ দেখাচ্ছে।
বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রসঙ্গে দাবি:
বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও রাজশাহীর সিভিল সার্জনের কাছে পাঁচ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে:
- রাজশাহীতে ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল অবিলম্বে চালু করা।
- হামের মতো সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
- অসুস্থদের সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত।
- রাজশাহী মেডিকেল কলেজে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অনিয়ম নিরসন।
- আইসিইউ কমপ্লেক্সে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্তকরণ এবং ভর্তি রোগীর ১০ শতাংশের জন্য আইসিইউ ব্যবস্থা নিশ্চিত।
সিএ/এমই


