কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদীর মোহনা এলাকা থেকে তিনটি মাছ ধরার নৌযানসহ ১৩ জন বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে সাগর থেকে মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে শাহপরীর দ্বীপের নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকার কাছাকাছি স্থান থেকে তাঁদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আটক হওয়া জেলেরা হলেন মো. মোস্তাফিজুর রহমান (৪০), মো. ফরিদ হোসেন (৩০), মো. রবিউল হাসান (১৭), মো. কালাম (৩০), মো. হোসেন আহম্মদ (৩৮), মো. মীর কাশেম আলী (৪০), মো. গিয়াস উদ্দিন (১৮), মো. সালাউদ্দিন (১৮), মো. মহিউদ্দিন (২২), মো. কালু মিয়া (৫৫), মো. আবু তাহের (৪০), মো. আবদুল খালেক (৪০) ও মো. জাবের মিয়া (২৪)। তাঁদের সবাই টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা বলে স্থানীয়ভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, শনিবার সকালে মাছ শিকার শেষে নৌকাগুলো যখন উপকূলের দিকে ফিরছিল, তখন নাফ নদীর মোহনা সংলগ্ন এলাকায় আরাকান আর্মির সদস্যরা তাঁদের আটক করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার খবর দ্রুত জেলেপল্লিতে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়।
শাহপরীর দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম বলেন, তিনটি নৌকার ১৩ জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জেলেপল্লিতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঘটনটি সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ বলেন, ‘জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি জানার চেষ্টা চলছে। আমাদের সীমান্তে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে জেলেদের ফেরত আনার প্রচেষ্টা চালানো হবে।’
স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, গত দুই বছরে বিভিন্ন সময় অন্তত পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশি জেলেকে আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে গেছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় তিন শতাধিক জেলে পরে দেশে ফিরে আসতে পেরেছেন। সবশেষ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ৭৩ জন জেলে মুক্ত হয়ে দেশে ফেরেন। তবে এখনো প্রায় দেড় শতাধিক জেলে আরাকান আর্মির হেফাজতে আটকা রয়েছেন বলে দাবি করেন উপকূলের জেলেরা।
সিএ/এমই


