বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে দারিদ্র্য ও বৈষম্য একটি স্থায়ী সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। আধুনিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সম্পদের বৈষম্য ক্রমশ বাড়ছে, যেখানে ধনী আরও ধনী এবং দরিদ্র আরও সংকটে পড়ছে।
ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তার চেষ্টা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে সুদ ও কঠোর শর্তের কারণে তা নতুন করে ঋণজালে আবদ্ধ করছে। এই বাস্তবতায় ইসলামি অর্থনীতি একটি বিকল্প পথ হিসেবে ‘করজে হাসানা’ ধারণা উপস্থাপন করে।
করজে হাসানা বলতে বোঝায় এমন ঋণ, যা নিঃস্বার্থভাবে প্রদান করা হয় এবং এর বিপরীতে কোনো সুদ বা লাভ প্রত্যাশা করা হয় না। এটি মানবিক সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
কোরআন ও হাদিসে এই ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘কে আছে এমন, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে, তাহলে আল্লাহ তা তার জন্য বহুগুণে বৃদ্ধি করবেন। আল্লাহই সংকুচিত করেন ও প্রশস্ত করেন। তাঁরই কাছে তোমরা প্রত্যাবর্তন করবে।’ (সুরা বাকারা : ২৪৫)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে মুসলমান অন্য মুসলমানকে দু-বার ঋণ দেয়, তার প্রতিদান একবার সদকা করার সমান।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ : ২৪৩০)।
করজে হাসানা একটি মানবিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যা লাভ-ক্ষতির হিসাবের বাইরে গিয়ে সমাজে সহমর্মিতা ও আস্থার ভিত্তি তৈরি করে। এতে মূলধন ফেরত আসে, যা পুনরায় অন্যদের সহায়তায় ব্যবহার করা যায়।
ইসলামি অর্থনীতিতে এটি জাকাত ও সদকার পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মাধ্যমে সম্পদের সুষম বণ্টন এবং সামাজিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
বর্তমান সময়ে সুদভিত্তিক অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রাস্ফীতি এবং ঋণনির্ভরতার প্রেক্ষাপটে করজে হাসানা একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি শুধু অর্থনৈতিক সহায়তা নয়, বরং নৈতিক ও মানবিক সমাজ গঠনের একটি পথনির্দেশনা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কাঠামোর মাধ্যমে করজে হাসানা কার্যকর করা গেলে এটি দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক সংহতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সিএ/এমআর


