ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি ছবি প্রকাশ করে দেশত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি। ছবিতে তাকে কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে দেখা যায়।
ফেসবুক পোস্টে এনামুল হাসান নবীন লিখেন, ‘সিংহের মতো বাঁচতে চাই। কিন্তু সিন্ডিকেটের গুলিতে সন্তানদের এতিম করতে চাই না। তাই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হয়তো একদিন দেশে ফিরব ইনশাআল্লাহ।’
এর আগে একই দিন বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশ ছাড়ার ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি বলেন, ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তবে এ কারণে যদি বাধার সম্মুখীন হতে হয়, তাহলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার কথাও ভাবছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, নির্দিষ্ট দামের নিচে পাঞ্জাবি ও পাজামা বিক্রি না করার জন্য একটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট চাপ সৃষ্টি করছে। তার দাবি, ৪ হাজার ৫০০ টাকার নিচে পাঞ্জাবি এবং ১ হাজার ৫০০ টাকার নিচে পাজামা বিক্রি না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এনামুল হাসান নবীন আরও বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানে কম দামে পণ্য বিক্রির কারণ উৎপাদন খরচ কম হওয়া। তিনি জানান, তারা ৩০০ টাকাতেও পাঞ্জাবি-পাজামা বিক্রি করেন এবং বিভিন্ন দামের পণ্য বাজারদরের চেয়ে কম দামে সরবরাহ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ফোনের মাধ্যমে ভয় দেখিয়ে তাদের শোরুম বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানের আয়ের একটি বড় অংশ দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হয়। খাদ্য বিতরণ ও চিকিৎসা সহায়তার মতো কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয় তাদের পক্ষ থেকে।
সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করলেও এখন পর্যন্ত তেমন সহায়তা পাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আশঙ্কা করেন, দেশে থাকলে প্রাণনাশের ঝুঁকি থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, ঈদুল ফিতরের আগে ২০ মার্চ একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মগবাজারে নবীন ফ্যাশনের দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী ও একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।
সিএ/এমআর


