বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মধ্যে একাকিত্বের অনুভূতি বৃদ্ধি পায়। শৈশবের দিনগুলোতে একাকিত্ব সাধারণত অনুভূত হয়নি। বিকেলের মাঠ, স্কুলের বন্ধুরা, পরিবারের হাসি—এসব ভেতরের শূন্যতাকে পূরণ করত। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় থাকলেও ভেতরের শূন্যতা ধীরে ধীরে জায়গা করে নেয়।
একটি প্রধান কারণ হলো দায়িত্বের বৃদ্ধি। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, পরিবার সবকিছুর ভার কাঁধে নিতে গিয়ে আমরা ধীরে ধীরে নিজের ভেতরের শিশুটিকে হারিয়ে ফেলি। আগের মতো হুটহাট বন্ধুর বাসায় চলে যাওয়া বা রাতভর গল্প করার সুযোগ থাকে না। সময়ের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কগুলোকে দূরে সরিয়ে দেয়।
দ্বিতীয়ত, সম্পর্কের সংজ্ঞা পরিবর্তিত হয়। ছোটবেলায় বন্ধুত্ব ছিল সহজ এবং সরল। বয়স বাড়লে প্রত্যাশা, ব্যস্ততা এবং কখনও স্বার্থ যুক্ত হয়। সবাই নিজের জীবন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে ফোনে অনেক নাম থাকলেও মন খুলে কথা বলার মানুষ কমে যায়।
তৃতীয় কারণ হলো আত্মসচেতনতা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা নিজেদের নিয়ে বেশি ভাবতে শিখি। নিজের অপূর্ণতা, ব্যর্থতা ও না পাওয়া বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হয়। আগে সহজে ভুলে যাওয়া কষ্টগুলো এখন গভীর ছাপ ফেলে।
ডিজিটাল যুগও একাকিত্বের অনুভূতি বাড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সবাইকে সুখী, সফল আর হাসিখুশি দেখতে দেখতে নিজের জীবনকে তুলনা করি। এই তুলনা এক ধরনের নীরব একাকিত্ব সৃষ্টি করে।
তবে একা লাগা মানে দুর্বলতা নয়। বরং এটি প্রমাণ করে আমরা অনুভব করতে জানি। বড় হওয়ার এই একাকিত্ব আমাদের শেখায় নিজের সঙ্গে সময় কাটাতে, নিজের ভালো লাগা খুঁজে নিতে এবং নিজের শক্তি চেনার। বন্ধুর সংখ্যা কমলেও সম্পর্কগুলো গভীর হয়।
সিএ/এমআর


