মানবদেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর মধ্যে কিডনি অন্যতম, যা প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রক্ত পরিশোধন করে শরীরকে সুস্থ রাখে। তবে কিডনির সমস্যা অনেক সময় দীর্ঘদিন অজানাই থেকে যায়, কারণ শুরুতে এর স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনি রোগকে প্রায়ই ‘সাইলেন্ট ডিজিজ’ বলা হয়। কারণ কিডনি তার উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো লক্ষণ প্রকাশ করে না। এই কারণে অনেক ক্ষেত্রে রোগ ধরা পড়ে দেরিতে।
বিশেষজ্ঞ রিতেশ বাওরি বলেন, ‘কিডনি তার প্রায় ৪০ শতাংশ কার্যক্ষমতা হারানোর আগ পর্যন্ত অনেক সময় কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। এটি কোনো ত্রুটি নয়, বরং শরীরের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। শুরুতে কিডনি অসাধারণভাবে ক্ষতিপূরণ করে কাজ চালিয়ে যায়। এ কারণেই বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে রোগ ধরা পড়ে দেরিতে।’
তবে শরীরের কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন লক্ষ্য করলে আগেভাগেই কিডনির সমস্যার আভাস পাওয়া সম্ভব। যেমন প্রস্রাবে পরিবর্তন—ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, ফেনা দেখা দেওয়া বা রঙের পরিবর্তন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে।
অকারণ ক্লান্তি, পর্যাপ্ত ঘুমের পরও দুর্বলতা অনুভব করা, সকালে চোখ বা পায়ের ফোলাভাব এবং হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া—এসবও কিডনি সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
কিডনির অবস্থা জানতে eGFR ও Urine Albumin-to-Creatinine Ratio পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রাও নজরে রাখা প্রয়োজন।
কিডনি সুস্থ রাখতে লবণ কম খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সঠিক সময়ে খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাও জরুরি।
সিএ/এমআর


