গাছের কাণ্ডের বাইরের আবরণ, যাকে আমরা বাকল বা ছাল বলি, উদ্ভিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল একটি অংশ। প্রতিদিন আমাদের চোখে পড়া গাছগুলোর টিকে থাকার পেছনে এই বাকলের ভূমিকা অপরিসীম। গাছ নিজের খাদ্য নিজেই পাতার মাধ্যমে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় তৈরি করে। সেই খাদ্য গাছের বিভিন্ন অংশে পৌঁছাতে এবং গাছকে সুরক্ষিত রাখতে বাকল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাকলের গঠন গাছভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। অনেক সময় শুধু বাকল দেখেই একটি গাছের প্রজাতি শনাক্ত করা সম্ভব। কিছু গাছে সারা জীবন একই ধরনের বাকল দেখা যায়, আবার কিছু গাছে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাকলের গঠন ও চেহারায় পরিবর্তন আসে।
উদ্ভিদবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে, ভাসকুলার ক্যাম্বিয়ামের বাইরের সব টিস্যুকেই বাকল বলা হয়। এর ভেতরের অংশে থাকে সেকেন্ডারি ফ্লোয়েম, যা খাদ্য পরিবহনের কাজ করে। তবে এই অংশটি সাধারণত এক বছর সক্রিয় থাকে। পরে পুরোনো ফ্লোয়েম কোষ থেকে কর্ক ক্যাম্বিয়াম তৈরি হয়, যা কর্ক কোষ উৎপন্ন করে। এসব কোষ ধীরে ধীরে বাইরে সরে গিয়ে চাপে নষ্ট হয় এবং শেষ পর্যন্ত ঝরে পড়ে।
বাকলের বাইরের স্তর মূলত কর্ক ও অকার্যকর টিস্যু দিয়ে গঠিত, যা গাছকে বাহ্যিক আক্রমণ থেকে রক্ষা করে। কর্ক ক্যাম্বিয়াম একটি প্রতিরক্ষামূলক দেয়াল তৈরি করে, যা পোকামাকড়, ছত্রাক ও পরিবেশগত ক্ষতি থেকে গাছকে সুরক্ষা দেয়। তবে এই প্রক্রিয়ায় বাইরের টিস্যুগুলো ভেতরের অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং মৃত হয়ে যায়। এ কারণেই গাছের বাইরের ছাল সাধারণত মৃত কোষ দিয়ে তৈরি।
গাছের বাকল দুইটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত—ফ্লোয়েম ও কর্ক। ফ্লোয়েম গাছের তৈরি খাদ্য ও প্রয়োজনীয় উপাদান পরিবহন করে, আর কর্ক সুরক্ষা দেয় এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পাশাপাশি বাকল গাছের ভেতরের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং অতিরিক্ত পানি প্রবেশে বাধা দেয়।
গাছ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো বাকল খসে পড়ে এবং নতুন বাকল তৈরি হয়। কিছু গাছে এই খসে পড়া দ্রুত ঘটে, আবার কিছু গাছে দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে ধীরে ঘটে। এই প্রক্রিয়া অনেকটা সাপের খোলস বদলের মতো।
এ ছাড়া বাকল বিভিন্ন পোকামাকড় ও উপকারী জীবের আশ্রয়স্থল হিসেবেও কাজ করে, যা গাছের বৃদ্ধি ও সুস্থতায় ভূমিকা রাখে।
সিএ/এমআর


