কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সাম্প্রতিক সময়ে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে জটিল থেকে জটিলতর পরীক্ষাতেও অসাধারণ ফলাফল করছে। চিকিৎসা, আইন কিংবা গণিত—বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষের তৈরি কঠিন প্রশ্নেরও দ্রুত সমাধান দিচ্ছে এই প্রযুক্তি। ফলে এআইয়ের প্রকৃত সক্ষমতা নির্ণয় করা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন গবেষকেরা।
এই প্রেক্ষাপটে বিশ্বের প্রায় এক হাজার গবেষক একত্র হয়ে এআইয়ের জন্য একটি ব্যতিক্রমধর্মী পরীক্ষা তৈরি করেছেন। এই পরীক্ষার নাম রাখা হয়েছে হিউম্যানিটিজ লাস্ট এক্সাম। এতে আড়াই হাজারের বেশি জটিল প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সাধারণভাবে ইন্টারনেটে খুঁজে পাওয়া যায় না।
এই পরীক্ষার বিশেষত্ব হলো, প্রশ্ন তৈরির সময় প্রতিটি প্রশ্ন আগে উন্নতমানের এআই সিস্টেমে পরীক্ষা করা হয়েছে। কোনো এআই যদি সঠিক উত্তর দিতে পারে, তাহলে সেই প্রশ্ন বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শুধুমাত্র যেসব প্রশ্নে এআই ব্যর্থ হয়েছে, সেগুলো দিয়েই তৈরি হয়েছে এই প্রশ্নভাণ্ডার।
প্রশ্নগুলোতে প্রাচীন ভাষার অনুবাদ, জটিল বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন বিষয়ে গভীর জ্ঞান যাচাইয়ের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে এগুলো সমাধান করতে শুধু তথ্য নয়, প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণী ক্ষমতাও প্রয়োজন হয়।
প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, বেশির ভাগ এআই মডেলের ফলাফল খুবই কম। কিছু উন্নত মডেল তুলনামূলক ভালো করলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ সাফল্য অর্জন করতে পারেনি।
এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত গবেষকদের মতে, এআইয়ের বুদ্ধিমত্তা শুধু তথ্য বিশ্লেষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বাস্তব প্রেক্ষাপটে তা প্রয়োগ করার সক্ষমতাই আসল চ্যালেঞ্জ। তারা মনে করেন, সঠিক মূল্যায়ন পদ্ধতি ছাড়া এআইয়ের ক্ষমতা সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।
এই পরীক্ষার মাধ্যমে মূলত এআইয়ের সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের দিকনির্দেশনা তৈরি করাই লক্ষ্য। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে যে, মানুষের জ্ঞান ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা এখনো অনেক ক্ষেত্রেই অনন্য।
সিএ/এমআর


