জাতীয় গ্রিড লাইনে ত্রুটির কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের একটি ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। একই সমস্যার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া আরেকটি ইউনিট ছয় ঘণ্টা পর চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্যাস–সংকটের কারণে বন্ধ থাকা একটি ইউনিটও প্রায় এক সপ্তাহ পর পুনরায় চালু হয়েছে। বর্তমানে চারটি ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারিগরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির সচল পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি বড় ইউনিট থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছিল। কিন্তু শুক্রবার দুপুরে আশুগঞ্জ–ভুলতা ৪০০ কেভি গ্রিড লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যায় এবং প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন নেমে আসে মাত্র ২২৫ মেগাওয়াটে।
ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর কারিগরি দল দ্রুত কারণ অনুসন্ধান শুরু করে। পরে গ্রিড লাইনের সমস্যা আংশিকভাবে সমাধান হলে শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন নর্থ ইউনিট পুনরায় চালু করা হয়। এর আগে গ্যাস–সংকটের কারণে বন্ধ থাকা ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সাউথ ইউনিটটি বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে পুনরায় উৎপাদনে আসে।
তবে গ্রিড লাইনের ত্রুটি পুরোপুরি সমাধান না হওয়ায় শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইস্ট ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হয়নি। এ ইউনিট থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। এটি বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক (পরিচালন ও সংরক্ষণ) মো. আব্দুল মজিদ বলেন, জাতীয় গ্রিড লাইনের ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির দুটি বড় ইউনিট বন্ধ হয়ে পড়েছিল। পরে কারিগরি ত্রুটি সারিয়ে নর্থ ইউনিটটি চালু করা হয়েছে। বর্তমানে ৪৫০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিটের পাশাপাশি ২২৫ মেগাওয়াট ও ২৫০ মেগাওয়াটের আরও দুটি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিট মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
সিএ/এমই


