ইসলামের ইবাদতব্যবস্থায় ইতিকাফ একটি গভীর ও আত্মশুদ্ধিমূলক অনুশীলন। এর মাধ্যমে মানুষ দুনিয়ার ব্যস্ততা ও কোলাহল থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে আল্লাহর ইবাদত ও স্মরণে নিমগ্ন হওয়ার সুযোগ পায়। রমজান মাসের শেষ দশকে এই ইবাদতের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্য হলো হৃদয়কে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে দেওয়া। মানুষের জীবনে নানা ব্যস্ততা, প্রবৃত্তির টান এবং অপ্রয়োজনীয় অভ্যাস হৃদয়কে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। ইতিকাফ সেই হৃদয়কে আবারও আল্লাহমুখী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
মানুষের আত্মিক দুর্বলতার পেছনে কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যেমন অতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া, অহেতুক মেলামেশা, অনর্থক কথাবার্তা এবং অতিরিক্ত ঘুম। ইসলাম এসব অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন অনুশীলনের নির্দেশ দিয়েছে, যার মধ্যে রোজা অন্যতম। রোজা মানুষের দেহ ও মনকে সংযত করে এবং ইবাদতে মনোযোগী হতে সহায়তা করে।
রাসুলুল্লাহ সা জীবনের শেষ পর্যন্ত প্রতি বছর রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ পালন করেছেন। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের হাদিসে এ তথ্য উল্লেখ রয়েছে। হাদিসে আরও বর্ণিত আছে যে তিনি সাধারণত রোজা ছাড়া ইতিকাফ করতেন না।
ইতিকাফের সময় নবীজি সা ফজরের নামাজ আদায়ের পর মসজিদের ভেতরে নির্দিষ্ট একটি স্থানে অবস্থান করতেন এবং সেখানে ইবাদতে নিমগ্ন থাকতেন। প্রাকৃতিক প্রয়োজন ছাড়া তিনি মসজিদ থেকে বের হতেন না। কখনো কখনো মসজিদে অবস্থান করেই তিনি হজরত আয়েশা রা-এর কক্ষের দিকে মাথা বাড়িয়ে দিতেন এবং আয়েশা রা তাঁর চুলের পরিচর্যা করে দিতেন।
ইতিকাফের সময় নবীজি সা প্রয়োজন ছাড়া মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন না এবং সম্পূর্ণভাবে ইবাদতে নিমগ্ন থাকতেন। লাইলাতুল কদর অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে তিনি রমজানের বিভিন্ন দশকে ইতিকাফ করেছিলেন। পরে নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি শেষ দশকেই নিয়মিত ইতিকাফ করতেন।
ইতিকাফ মানুষের জীবনকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে এবং আত্মিক উন্নতির পথ তৈরি করে। দুনিয়ার কোলাহল থেকে দূরে সরে আল্লাহর সান্নিধ্যে নিজেকে নিবেদন করার এই অনুশীলন একজন মুমিনের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।
সিএ/এমআর


