ঈদুল ফিতরের আগে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে রাষ্ট্রীয় স্টিমার সার্ভিস পুনরায় চালু এবং ভাঙ্গা–বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ দ্রুত শুরু করার দাবি জানিয়েছেন বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির নেতারা। একই সঙ্গে বরিশাল সেক্টরে বিমান চলাচল বাড়ানোর দাবিও জানিয়েছেন তারা।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে বরিশাল জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসব দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির নেতারা এ স্মারকলিপি প্রদান করেন।
সংগঠনটির সভাপতি নজরুল ইসলাম খান বলেন, আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বরিশাল-ঢাকা-বরিশাল নৌপথে রাষ্ট্রীয় স্টিমার সার্ভিস পুনরায় চালু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ঈদের পর বরিশাল সেক্টরে অন্তত দুটি বিশেষ ফ্লাইট চালু এবং ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ দ্রুত শুরু করার দাবি জানান তিনি।
এ ছাড়া বাংলাদেশ বিমানের বরিশাল কার্যালয়ের ব্যবস্থাপকের মাধ্যমে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর মাধ্যমে সড়ক ও সেতু বিভাগের মন্ত্রীর কাছেও পৃথক স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় অন্তত ১০ লাখ মানুষের যাতায়াতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয় নৌপরিবহন সংস্থা বিআইডব্লিউটিসি এবারও ঢাকা-চাঁদপুর-বরিশাল-ঝালকাঠী-পিরোজপুর-বাগেরহাট নৌপথে কোনো যাত্রীবাহী নৌযান পরিচালনার উদ্যোগ নেয়নি, যা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য বড় অসুবিধা তৈরি করবে।
এ ছাড়া জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নিয়মিত ও যাত্রীবান্ধব সময়সূচির ফ্লাইট চালুর দাবি দীর্ঘদিনের হলেও গত তিন দশকে এ সেক্টরে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। এবার ঈদের আগে তিন দিন বিশেষ ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ঈদের পর মাত্র একটি বিশেষ ফ্লাইটের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জনস্বার্থ বিবেচনায় ঈদের পরও ২৩, ২৪ ও ২৫ মার্চ বরিশাল সেক্টরে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম-বরিশাল-যশোর রুটে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ফ্লাইট চালুরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে উপকূলীয় তিন বিভাগের মধ্যে আকাশপথে যোগাযোগ সহজ হয়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ভাঙ্গা-বরিশাল-কুয়াকাটা রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, টেন্ডার ডকুমেন্ট ও নকশা প্রস্তুত থাকলেও অর্থায়নের অভাবে প্রকল্পটি স্থবির হয়ে আছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দাতা সংস্থার সহায়তা নিয়ে দ্রুত অনুমোদনের দাবি জানানো হয়।
পদ্মা সেতু চালুর পর ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়কে যানবাহনের চাপ প্রায় তিন গুণ বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয় স্মারকলিপিতে। ফলে বরিশাল-ভাঙ্গা মহাসড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা বেড়েছে। এ কারণে ফরিদপুর-বরিশাল-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে বরিশাল জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম (সুমন) বলেন, উত্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো দ্রুত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে, যাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
স্মারকলিপি দেওয়ার সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, প্রধান সমন্বয়কারী মহসিন উল ইসলাম, সহসভাপতি দেওয়ান আবদুর রশিদ, সাংবাদিক নাছিম উল আলম এবং যুব সংগঠক দীপু হাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনের সংগঠক সাংবাদিক নাছিম উল আলম বলেন, ‘আমরা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাবিসমূহ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করে স্মারকলিপি দিয়েছি। আশা করি, এসব দাবির যৌক্তিকতা বিবেচনা করে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে দ্রুত উদ্যোগ নেবেন।’
সিএ/এমই


