মার্কিন বিচার বিভাগের নতুন নথিতে উঠে এসেছে, কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী ও যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যুর আগে তাঁকে শেষবার জীবিত দেখেছিলেন যে কারারক্ষী, তাঁর ব্যাংক হিসাবে একাধিক সন্দেহজনক নগদ অর্থ জমার তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—এপস্টেইনের মৃত্যু সত্যিই আত্মহত্যা ছিল কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা থাকতে পারে।
রোববার (৮ মার্চ) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন কারেকশনাল সেন্টারে নিজের কক্ষে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় জেফরি এপস্টেইনকে। পরে তাঁর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করা হয়। তবে নতুন প্রকাশিত নথিতে দেখা যাচ্ছে, ওই রাতে দায়িত্বে থাকা দুই কারারক্ষীর একজন ৩৭ বছর বয়সী টোভা নোয়েল মৃত্যুর আগের এক বছরে তাঁর ব্যাংক হিসাবে একাধিকবার নগদ অর্থ জমা করেছিলেন।
নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে শুরু করে টোভা নোয়েলের ব্যাংক হিসাবে মোট ১২টি এটিএম নগদ জমা দেওয়া হয়। ব্যাংকটি এসব লেনদেনকে সন্দেহজনক কার্যক্রম হিসেবে চিহ্নিত করে ২০১৯ সালের নভেম্বরে এফবিআইকে অবহিত করে। এপস্টেইনের মৃত্যুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে, ৩০ জুলাই, টোভা নোয়েল শেষবারের মতো পাঁচ হাজার ডলার জমা করেন।
এপস্টেইনের কক্ষে দায়িত্বে থাকা আরেক কর্মকর্তা ছিলেন মাইকেল থমাস। অভিযোগ ছিল, তাঁরা দুজনই বন্দিদের নিয়মিত তদারকির রেকর্ড জাল করেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এপস্টেইনের সেল পাহারা দেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় আট ঘণ্টা তাঁরা সেখানে যাননি। অথচ তাঁর কক্ষটি তাঁদের ডেস্ক থেকে মাত্র ১৫ ফুট দূরে ছিল। পরে দুই কারারক্ষীকেই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়, যদিও তাঁদের বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি অভিযোগ পরে প্রত্যাহার করা হয়।
নতুন নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এপস্টেইনকে মৃত অবস্থায় পাওয়ার কিছু সময় আগে টোভা নোয়েল ইন্টারনেটে তাঁর সম্পর্কে খোঁজ করেছিলেন। ভোর ৫টা ৪২ মিনিটে তিনি “এপস্টেইনের জেল নিয়ে সর্বশেষ” লিখে অনুসন্ধান করেন এবং প্রায় ১০ মিনিট পরে আবার একই অনুসন্ধান করেন। এর প্রায় ৪০ মিনিট পর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মাইকেল থমাস এপস্টেইনকে তাঁর কক্ষে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
২০২১ সালে বিচার বিভাগের কাছে দেওয়া শপথনামায় টোভা নোয়েল এই অনুসন্ধানের বিষয়টি মনে করতে পারেননি বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, হয়তো কোনো সংবাদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর ব্রাউজারে উঠে এসেছিল। তবে তদন্তকারীরা তাঁর কম্পিউটারের ফরেনসিক বিশ্লেষণে এই সার্চের রেকর্ড খুঁজে পান।
২০২৩ সালে বিচার বিভাগের মহাপরিদর্শকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মৃত্যুর রাত প্রায় ১০টা ৪০ মিনিটে একটি ঝাপসা সিসিটিভি ফুটেজে একটি কমলা রঙের অবয়ব দেখা যায়, যাকে টোভা নোয়েল বলে ধারণা করা হয়েছে। সেখানে একজন কারারক্ষীকে এপস্টেইনের সেলের দিকে বিছানার চাদর বা বন্দির পোশাক নিয়ে যেতে দেখা যায়।
এদিকে একই কারাগারের এক অজ্ঞাত বন্দী তদন্তকারীদের জানান, এপস্টেইনের মৃত্যুর সকালে কিছু কারারক্ষী ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। তিনি দাবি করেন, ভোরের দিকে তিনি “শ্বাস নাও, শ্বাস নাও” বলে চিৎকার শুনেছিলেন এবং পরে কারও মুখে শুনেছিলেন—“তুমি লোকটাকে মেরে ফেলেছ।”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে টোভা নোয়েল শপথ করে বলেছেন, এপস্টেইনের মৃত্যুর সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবুও নতুন প্রকাশিত নথি এপস্টেইনের রহস্যময় মৃত্যুকে ঘিরে বিতর্ককে আবারও তীব্র করে তুলেছে।
সূত্র: টেলিগ্রাফ
সিএ/এসএ


