কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আসমানিয়া বাজারসংলগ্ন গোমতী নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি পাকা সেতুর কাজ সাড়ে তিন বছরেও শেষ হয়নি। নদীর দুই তীরের অন্তত ৪৫ গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ নিয়মিত যাতায়াতের জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এলাকার লোকজনকে ঝুঁকি নিয়ে কাঠের নড়বড়ে ভাসমান সেতু পার হতে হয়, যা দুই দফা ভেঙে বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায়।
নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত আসমানিয়া বাজার, বেগম রোকেয়া বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নারান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রিগ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ অসংখ্য শিক্ষা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। সেতু নির্মাণে বিলম্বের কারণে বাজারের ব্যবসায়ী, ক্রেতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পড়ছেন।
বেগম রোকেয়া বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির তামান্না আক্তার জানান, স্কুলে যাওয়া-আসার সময় ভাসমান সেতু পার হতে খুব ভয় লাগে। বৃষ্টিতে কাঠের পাটাতন নড়বড়ে হয়ে যায়, মনে হয় সেতু ভেঙে পড়বে। প্রয়োজন ছাড়া নদীর পশ্চিম তীরের অন্তত ২৫টি গ্রামের মানুষকে আসমানিয়া বাজারে এবং পূর্ব তীরের অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষকে উপজেলা পরিষদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও থানা কার্যালয়ে যেতে হয়।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার রায়পুর বাসস্ট্যান্ড থেকে তিতাস উপজেলার বাতাকান্দি বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক রয়েছে। আসমানিয়া বাজারসংলগ্ন পুরোনো পাকা সেতু ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ৮ আগস্ট। ১০ কোটি ৭৭ লাখ ২৫ হাজার ৬৯৯ টাকা ব্যয়ে ৭৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণের কথা থাকলেও সাড়ে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি।
আসমানিয়া বাজারের ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেন, পাকা সেতুর কাজ ধীরগতিতে চলছে। অস্থায়ী ভাসমান সেতুর অবস্থাও নাজুক। প্রায়ই ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অনেকেই বাজারে আসতে চায় না, ব্যবসাও কমে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নির্মাণকাজ ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে দুই দফা সময় বাড়ানো হলেও সেতু এখনো সম্পন্ন হয়নি। তৃতীয় দফায় চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বর্ধিত হয়েছে।
নারান্দিয়া গ্রামের শিক্ষক হেলাল আল মামুন বলেন, দুই তীরের মানুষের চলাচলের জন্য স্থানীয়রা প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮০ মিটার দীর্ঘ অস্থায়ী ভাসমান সেতু নির্মাণ করেন। ২৯ মে বালুবাহী একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় এটি ভেঙে যায়। পরে মেরামত করা হলেও ২১ আগস্টের বন্যায় আবারও ধ্বংস হয়। স্থানীয়রা নদীর স্রোত কমার পর মেরামত করে পুনরায় চলাচল শুরু করেছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তিতাস উপজেলা প্রকৌশলী মো. খোয়াজুর রহমান জানান, সেতুর নির্মাণ দ্রুত শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএবিএনএমই কোম্পানির সহকারী প্রকৌশলী আবদুল আহাদও জানিয়েছেন, কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে।
সিএ/এমই


