পবিত্র রমজান মাসে সারাদিন পানাহার থেকে বিরত থাকার পর ইফতার প্রতিটি রোজাদারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটে। তাই ইফতারের সময় কী ধরনের খাবার খাওয়া হচ্ছে, তার ওপরই নির্ভর করে শরীরের শক্তি পুনরুদ্ধার ও সার্বিক সুস্থতা।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, ইফতারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সারাদিনের ক্লান্তি কাটিয়ে শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগানো এবং পানিশূন্যতা দূর করা। সঠিক খাবার নির্বাচন করলে রোজাদাররা পুরো মাসজুড়ে সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকতে পারেন।
ঐতিহ্যগতভাবে ইফতার শুরু করা হয় খেজুর দিয়ে। এটি শুধু সুন্নাহ নয়, বরং পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ একটি ফল। খেজুর দ্রুত শক্তি জোগাতে সক্ষম এবং এতে থাকা পটাশিয়াম শরীরের পেশি ও স্নায়ুকে সচল রাখতে সহায়তা করে। তবে এতে প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকায় পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
খেজুরের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। সারাদিন রোজা রাখার কারণে শরীরে যে পানিশূন্যতা তৈরি হয়, তা দূর করতে পানি ও প্রাকৃতিক ফলের রস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইফতারের খাবারে প্রতিদিন অন্তত দুই ধরনের শাকসবজি ও ফল রাখা প্রয়োজন। রঙিন ফল ও সবজি শরীরকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে এবং হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে।
বিশেষ করে তরমুজ, শসা ও পেঁপের মতো পানিসমৃদ্ধ ফল শরীরের পানির ঘাটতি পূরণে সহায়ক। ইফতারের পাতে অল্প পরিমাণ সালাদ রাখলে তা পাকস্থলীকে স্বস্তি দেয় এবং ভাজাপোড়া খাবারের প্রভাব কিছুটা কমায়।
পুষ্টিবিদরা আরও বলেন, দ্রুত হজম হওয়া চিনিযুক্ত খাবারের তুলনায় জটিল শর্করা জাতীয় খাবার ইফতারে বেশি উপকারী। সাদা ভাতের পরিবর্তে বাদামি চাল, আটা বা লাল আটার রুটি এবং আস্ত শস্য দিয়ে তৈরি খাবার দীর্ঘ সময় শক্তি জোগাতে পারে।
এসব খাবার ধীরে ধীরে রক্তে চিনি সরবরাহ করে, ফলে ইফতারের পর অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ঝিমুনি আসে না। পাশাপাশি ফাইবারসমৃদ্ধ এসব খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও কার্যকর, যা রমজানে অনেকের জন্য সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।
শরীরের ক্ষয়পূরণে প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ইফতারের তালিকায় চর্বিহীন মাংস, চামড়াবিহীন মুরগি, মাছ, ডিম কিংবা ডাল রাখা ভালো। তবে খাবার রান্নার পদ্ধতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবারের বদলে স্টিমিং, গ্রিলিং বা বেকিং পদ্ধতিতে রান্না করা খাবার বেছে নেওয়া উচিত। এতে হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।
সিএ/এমআর


