ইরান-আমেরিকা সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির খবরে বাংলাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে ভিড় হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ভিড় মূলত ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কিত হয়ে তেল কেনার কারণে, বাস্তবে তেলের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।
দেশের তেল সরবরাহ: স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নিরাপদ
বাংলাদেশে ব্যবহৃত পেট্রোলের বড় অংশ দেশীয় উৎস থেকে আসে। গ্যাস উত্তোলনের সময় উৎপন্ন কনডেনসেট (হালকা তেল) থেকে পেট্রোল তৈরি হয়। দেশের চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ক্ষমতা বেশি, এমনকি অতিরিক্ত কনডেনসেট পোড়ানোর ঘটনাও ঘটেছে। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও সরবরাহে সরাসরি প্রভাব নেই।
পেট্রোলের মান বোঝাতে ব্যবহৃত অকটেন রেটিং সাধারণ পেট্রোলের জন্য ৮০–৮৭ এবং অকটেনের জন্য ৮৭–৯১। মান উন্নত করতে বিদেশ থেকে আনা অকটেন বুস্টার দেশীয় তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয়।
উৎপাদন ও রিফাইনারি
সরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড ছাড়াও সুপার রিফাইনারি, পিএইচপি পেট্রো, একুয়া মিনারেল, সিজেডকে রিফাইনারি, জেবি রিফাইনারি এবং গোল্ডেন কনডেনসেট অয়েল রিফাইনারি পেট্রোল উৎপাদনে সক্রিয়। বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১৬ লাখ টন, যা দেশের চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ।
ডিজেল আমদানিনির্ভর হলেও ২০২৩ সালে উদ্বোধিত বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে ১০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ সম্ভব, যা সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক।
রেশনিং ও কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধ
প্যানিক বায়িং-এর কারণে কিছু পাম্পে সাময়িক মজুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তেলের দৈনিক সীমা নির্ধারণ করেছে:
মোটরসাইকেল/স্কুটার: সর্বোচ্চ ২ লিটার
প্রাইভেট কার: ১০ লিটার
জিপ/মাইক্রোবাস: ২০–২৫ লিটার
পিকআপ/লোকাল বাস: ৭০–৮০ লিটার ডিজেল
দূরপাল্লার যানবাহন: ২০০–২২০ লিটার ডিজেল
প্রতিবার কেনার সময় পূর্বের ক্রয়ের রসিদ প্রদর্শন বাধ্যতামূলক এবং পাম্পগুলোকে রসিদ সংরক্ষণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিএ/এসএ


