ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সংকুচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেকারত্বও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংঘাতের অভিঘাত দেশের রিজার্ভ ছাড়িয়ে সামাজিক নিরাপত্তা খাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায় বৈশ্বিক তেল সমৃদ্ধ ৬ দেশ—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে প্রবাসী প্রায় ৪৫ লাখ বাংলাদেশি আছেন। ঢাকার একাংশ পরিবার তাদের রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল। সংঘাত দীর্ঘ হলে প্রবাসীরা অর্থনৈতিক দূরাবস্থার সম্মুখীন হবেন এবং দেশে ফেরার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে নতুন বসবাস ও অন্যান্য সুবিধা দিতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শহীদুল জাহীদ বলেন, “সংঘাত দীর্ঘ হলে প্রবাসীরা অর্থনৈতিক দূরাবস্থার সম্মুখীন হবেন। সন্তানদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটতে পারে, এবং যারা প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তারা বিপাকে পড়তে পারেন। এই পরিস্থিতি সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।”
করোনার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির দ্বন্দ্ব বৈশ্বিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা বেকারত্ব বাড়াতে প্রভাব ফেলবে। বিশেষত তৃতীয় শ্রেণীর কর্মজীবী শ্রমিক ও প্রবাসী শ্রম নির্ভর দেশগুলোতে আঘাত সবচেয়ে বেশি আসবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট প্রবাসী আয়-এর প্রায় ৪৫.৪০ শতাংশ এসেছে জিসিসিভুক্ত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, “সংঘাতের কারণে প্রবাসীরা চাকরি হারালে রেমিট্যান্স কমবে এবং দেশে ফেরার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে তাদের জন্য বসবাসের ব্যবস্থা করতে হবে। এই নেতিবাচক প্রভাব দেশের ওপর পড়তে পারে।”
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ হামলা শুরু করেছে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি, তার পরিবারের সদস্যসহ অন্তত অর্ধশতাধিক সিনিয়র কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। পাল্টা হামলায় ইরানে এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, ইসরাইলে ১১ জন ও যুক্তরাষ্ট্রের ৬ সেনা নিহত হয়েছেন। কুয়েত, বাহরাইন, আমিরাতেও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। লেবাননেও ইসরায়েলি হামলায় প্রায় অর্ধশত মানুষ নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, সংঘাত অন্তত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ চলতে পারে, আর ইরান যুদ্ধের সমাপ্তি তার নিজস্ব সিদ্ধান্তে নির্ধারণ করবে।
সিএ/এসএ


