অনেক পরিবারেই দেখা যায়, বাবা সন্তানের ভুল আচরণে শাসন করলে মা আপত্তি জানান। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, মায়েরা কি সত্যিই বাবার শাসন মেনে নিতে পারেন না? মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে মা ও বাবার ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এবং সন্তানের প্রতি আলাদা ধরনের যত্নের প্রকাশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মা ও বাবা অনেক সময় সন্তানের আচরণকে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করেন। মায়েরা সাধারণত সন্তানের বর্তমান আবেগের দিকে বেশি নজর দেন। শিশুর কান্না, ভয় বা অপমানবোধের মতো তাত্ক্ষণিক অনুভূতি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে অনেক বাবা সন্তানের আচরণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে ভাবেন। কোনো অভ্যাস ঠিক না করলে ভবিষ্যতে সমস্যা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে তারা তুলনামূলক দৃঢ় অবস্থান নিতে চান।
আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের মতে, সন্তানের শাসনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত তাকে শেখানো, ভয় দেখানো নয়। তবে মা ও বাবার শাসনের ধরনে পার্থক্য থাকা অস্বাভাবিক নয়।
মনোবিজ্ঞানীরা আরও বলেন, শিশুর সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানোর কারণে অনেক মা সন্তানের আবেগের সূক্ষ্ম পরিবর্তন দ্রুত বুঝতে পারেন। ফলে বাবার কড়া সুর শুনলে অনেক সময় মায়ের ভেতরে সন্তানের প্রতি রক্ষামূলক প্রবৃত্তি কাজ করে।
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষণায় বলা হয়েছে, নিরাপদ সংযুক্তি বা সিকিউর এটাচমেন্ট শিশুর আবেগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই মায়েরা প্রায়ই সেই নিরাপত্তাবোধ বজায় রাখতে চান।
তবে কখনও কখনও বাবার দৃঢ় কণ্ঠকে মা অতিরিক্ত কঠোরতা হিসেবে মনে করতে পারেন, যদিও বাবার উদ্দেশ্য থাকে সন্তানের জন্য সঠিক সীমারেখা নির্ধারণ করা। আবার কিছু ক্ষেত্রে শাসনের ধরন সত্যিই কঠোর হয়ে উঠতে পারে।
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য উষ্ণতা ও শৃঙ্খলা—দুই ধরনের পরিবেশই প্রয়োজন। এর যেকোনো একটি কম হলে আচরণগত ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
সমাজে দীর্ঘদিন ধরে মা কোমল আর বাবা কঠোর—এমন একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে। এই সামাজিক ধারণা অনেক সময় মা-বাবার প্রত্যাশা ও প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তানের সামনে নয়, বরং আলাদা করে মা-বাবার আলোচনা করা উচিত। শাসনের নিয়ম আগে থেকেই নির্ধারণ করা এবং একে অন্যের উদ্দেশ্যকে বোঝার চেষ্টা করা পরিবারে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
সিএ/এমআর


