ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব ও প্রাকৃতিক উপকরণের ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। টেকসই, নান্দনিক এবং ঐতিহ্যবাহী বৈশিষ্ট্যের কারণে পাটের তৈরি পণ্য এখন ঘরের অন্দরসজ্জায় নতুন এক ট্রেন্ড তৈরি করেছে।
আধুনিক ইন্টেরিয়র ডিজাইনে প্রাকৃতিক উপকরণের ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই পাট দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পণ্য ঘরের সাজসজ্জায় জায়গা করে নিচ্ছে। পাটের তৈরি কার্পেট, ঝুড়ি কিংবা দেয়াল সাজানোর উপকরণ শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং দেশের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প ও কারিগরদের দক্ষতাকেও তুলে ধরে।
পাটের পণ্য দিয়ে ঘর সাজানোর কিছু সহজ উপায় রয়েছে।
পাটের কার্পেট বা রাগ
ঘরে প্রবেশ করার পর বসার ঘরই সবার আগে নজরে আসে। তাই ঘরটির সাজসজ্জায় অনেকেই বাড়তি গুরুত্ব দেন। কম খরচে ঘরের পরিবেশ বদলাতে পাটের কার্পেট ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রাকৃতিক রঙের এই কার্পেট কাঠের আসবাব কিংবা হালকা রঙের সোফার সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায়। একই সঙ্গে এটি টেকসই এবং পরিষ্কার করাও তুলনামূলক সহজ।
পাটের তৈরি ঝাড়বাতি
ঘরে নান্দনিক ও গ্রামীণ আবহ আনতে পাটের তৈরি ঝাড়বাতি ব্যবহার করা যেতে পারে। বসার ঘর, ডাইনিং স্পেস কিংবা বারান্দায় এই ধরনের ঝাড়বাতি ব্যবহার করলে ঘরের সৌন্দর্য অনেকটাই বেড়ে যায়।
পাটের ওয়াল হ্যাংগিং
দেয়াল সাজানোর জন্য পাটের তৈরি ওয়াল হ্যাংগিং বেশ আকর্ষণীয়। বিভিন্ন নকশা ও হাতে তৈরি ডিজাইনের এসব দেয়ালসজ্জা ঘরে এক ধরনের গ্রামীণ অথচ আধুনিক পরিবেশ তৈরি করে।
পাটের ঝুড়ি বা স্টোরেজ বাস্কেট
ঘর গোছাতে পাটের ঝুড়ি খুবই ব্যবহারিক একটি উপকরণ। কাপড়, বই, খেলনা বা অন্যান্য ছোটখাটো জিনিস রাখার জন্য এগুলো ব্যবহার করা যায়। একই সঙ্গে এটি ঘরের সাজেও নতুনত্ব আনে।
পাটের ল্যাম্পশেড
ঘর আলোকিত করতে পাটের তৈরি ল্যাম্পশেড বা টেবিল ল্যাম্প ব্যবহার করা যেতে পারে। পাটের বুননের ফাঁক দিয়ে নরম আলো বের হলে ঘরে উষ্ণ ও আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি হয়। ডাইনিং স্পেস বা শোবার ঘরে এই ধরনের ল্যাম্পশেড বেশ মানানসই।
পাটের টেবিল ম্যাট ও কোস্টার
ডাইনিং টেবিল সাজাতে পাটের টেবিল ম্যাট ও কোস্টার ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো দেখতে সুন্দর হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধবও।
বাংলাদেশে এখন বিভিন্ন হস্তশিল্পের দোকান, ফ্যাশন হাউস এবং লাইফস্টাইল স্টোরে পাটের তৈরি হোম ডেকোর পণ্য সহজেই পাওয়া যায়। ঢাকার দোয়েল চত্বর ও মতিঝিল এলাকার কিছু দোকানেও পাটের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং বিভিন্ন হস্তশিল্প মেলায় পাটের পণ্যের বড় সংগ্রহ পাওয়া যায়।
বর্তমানে অনলাইনেও পাটের তৈরি পণ্য কেনা সহজ হয়েছে। অনেক উদ্যোক্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি করছেন।
সিএ/এমআর


