রমজান মাস মুসলমানদের জন্য ধর্মীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। তবে যেসব নারী জরায়ু, ডিম্বাশয় বা স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত এবং চিকিৎসাধীন, তাদের ক্ষেত্রে রোজা রাখা যাবে কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি, স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ এবং গাইনি ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. রুখসানা পারভীন জানিয়েছেন, ক্যানসার রোগীদের ক্ষেত্রে রোজা রাখার বিষয়ে একক কোনো নিয়ম নেই। রোগের ধরণ, রোগের স্তর, চলমান চিকিৎসা এবং রোগীর শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
তিনি বলেন, ‘ক্যানসার রোগীর ক্ষেত্রে একক কোনো নিয়ম নেই। রোগের ধরণ, স্টেজ, চলমান চিকিৎসা, রোগীর শারীরিক সক্ষমতা সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।’
চিকিৎসকের মতে, যেসব রোগী কেমোথেরাপি নিচ্ছেন, রেডিওথেরাপির মধ্যে আছেন অথবা অস্ত্রোপচারের পর দুর্বল অবস্থায় রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে রোজা না রাখাই ভালো। একইভাবে যেসব রোগী গুরুতর রক্তস্বল্পতা বা সংক্রমণে ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রেও দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শরীরের শক্তি কমে যেতে পারে, ডিহাইড্রেশন দেখা দিতে পারে এবং চিকিৎসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আরও বেড়ে যেতে পারে। এ কারণে চিকিৎসা চলাকালে রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে যেসব রোগী চিকিৎসা শেষ করে নিয়মিত ফলোআপে আছেন এবং শারীরিকভাবে স্থিতিশীল, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সীমিত পরিসরে রোজা রাখতে পারেন বলে জানান তিনি।
কেমোথেরাপি চলাকালে সাধারণত বমি ভাব, দুর্বলতা, মুখে ঘা, ক্ষুধামন্দা ও পানিশূন্যতার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এ অবস্থায় রোজা রাখলে শরীরে পানির ঘাটতি বাড়তে পারে, দ্রুত ওজন কমে যেতে পারে এবং শরীরের ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
জরায়ু বা স্তন ক্যানসারের অস্ত্রোপচারের পর রোগীর শরীর সুস্থ হতে সময় লাগে। সেলাই শুকানো, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং রক্তস্বল্পতা কাটিয়ে উঠতে পর্যাপ্ত পুষ্টি ও পানি প্রয়োজন। এই সময়ে রোজা রাখলে সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া ধীর হতে পারে।
তবে চিকিৎসকের অনুমতিতে কেউ রোজা রাখতে চাইলে খাদ্যাভ্যাসে কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে এবং ডিম, মাছ, মুরগি, ডাল ও দুধের মতো পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। পাশাপাশি ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
চিকিৎসকেরা আরও বলেন, মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা তীব্র বমি ও ডায়রিয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে রোজা ভেঙে দেওয়া উচিত।
ডা. রুখসানা পারভীন বলেন, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে রোজা রাখা ইসলামের শিক্ষাও নয়। অসুস্থ ব্যক্তির জন্য ছাড় রয়েছে।
তিনি আরও জানান, অনেক ক্যানসার রোগী মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা হতাশায় ভোগেন। রমজানে অন্যদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রোজা রাখতে না পারলে অনেক সময় অপরাধবোধ তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের রোগীকে মানসিকভাবে সমর্থন দেওয়া প্রয়োজন।
সিএ/এমআর


