গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ার ঘটনায় আহত আকরাম হোসেন (৪৫) নামের এক নির্মাণশ্রমিক গত রোববার রাজধানীর ডেলটা কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ সোমবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর মরদেহ বাড়িতে আনা হয় এবং দাফন সম্পন্ন হয়।
আকরাম শুক্রবার দুপুরে শ্রীপুরের বরমী ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকায় কয়েক দফা পিটুনির শিকার হন। এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক অমিতাভ চৌধুরী জানান, মামলাটি গতকাল দায়ের করা হয়েছে এবং আসামিদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে, তবে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে বরমী মধ্যপাড়া এলাকার মো. কবির, মাহবুব মিয়া, মরজিনা বেগমসহ কয়েকজন আকরাম হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালান। স্থানীয়রা জানায়, হামলাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। প্রথম হামলার সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আকরামের পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করেন। এরপর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগ দায়েরের পর বাড়ি ফেরার সময়ে অভিযুক্তরা আবারও লাঠিসোঁটা নিয়ে আকরামের পরিবারের ওপর হামলা চালান। এ সময় আকরামকে ব্যাপকভাবে পিটুনি দেওয়া হয়। আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রোববার দুপুরে আকরামের মৃত্যু হয়।
নিহত আকরামের স্বজন শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করার পর তাঁকেসহ অন্যদের মারধর করা হয়। অভিযোগ দায়েরের পর বাড়ি ফেরার সঙ্গে সঙ্গে আবারও হামলা চালানো হয়। এর ফলে আকরামসহ তিনজন আহত হন। তার মধ্যে আকরাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।’
মামলার তদন্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য শ্রীপুর থানা অভিযান চালাচ্ছে। নিহত আকরামের পরিবারের দাবি, সংশ্লিষ্টদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার করা হোক।
সিএ/এমই


