বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে ইরান সম্পর্কে প্রচলিত ধারণার সঙ্গে বাস্তবতার বড় পার্থক্য রয়েছে। ইরানে বসবাস ও পড়াশোনার অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, সমাজের প্রায় সব ক্ষেত্রেই নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে। অফিস, আদালত, ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ সর্বত্র নারীরা দায়িত্ব পালন করছেন।
ইরানে দীর্ঘ সময় বসবাসকারী একজন গবেষকের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে, সামাজিক নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো। রাত–দিন নির্বিঘ্নে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত করা যেত। একই সঙ্গে দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো, পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য সমাজজীবনে বড় প্রভাব ফেলেছে।
হাসান রুহানি সরকারের সময় পরমাণু চুক্তিকে ঘিরে আশাবাদ তৈরি হলেও পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, নিষেধাজ্ঞা ও অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, ডলারের দাম বাড়া এবং সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে জনজীবনে অস্থিরতা দেখা দেয়।
তবে এসব সংকটের মধ্যেও ইরানের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ফারসি ভাষার ঐতিহ্য কখনো হারিয়ে যায়নি। বরং উদার মনন, মানবিকতা ও আধ্যাত্মিক চর্চার মধ্য দিয়েই পারস্য সভ্যতা নিজস্ব স্বকীয়তা ধরে রেখেছে। ইতিহাসের নানা আগ্রাসন ও শাসন পরিবর্তনের পরও ইরানি সমাজ কখনোই তার পরিচয় বিসর্জন দেয়নি।
সিএ/এমআর


