স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ সদস্যদের নিহত হওয়ার ঘটনা সংক্রান্ত তদন্তের বিষয়ে তিনি এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি।
আজ রোববার সচিবালয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান। এক সাংবাদিক জানতে চান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাইয়ে নিহত পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যা বক্তব্য, সেটি অনুযায়ী চলবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জবাবে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ ব্যাপারে কিছু বলেছে? মহাসচিব কেন এ ব্যাখ্যা দিলেন, আমি জানি না। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেইনি। আমাদের মহাসচিব কী বলেছেন, আমি জানি না। এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের জানা আছে, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল। তার ভিত্তি ছিল জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকারনামায় একটি ধারা। সে ধারা অনুযায়ী সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদে যারা সই করেছে, তারা সবাই অঙ্গীকারনামার বিষয়ে একমত হয়েছে। এটি ছিল, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় যারা নেতৃত্ব দিয়েছে, অংশগ্রহণ করেছে, তাদের আইনি এবং সাংবিধানিক সুরক্ষা দিতে হবে। এসব অঙ্গীকার আমরা সই করেছি।’
এক সাংবাদিক জানতে চান, সশস্ত্র বাহিনী কতদিন মাঠে থাকবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জবাবে বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কত দিন মাঠে থাকবে, তা উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী নিজেও দীর্ঘসময় মাঠে থাকতে চায় না কারণ তাদের প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য কর্মকাণ্ডে সমস্যা হচ্ছে। তবে সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলার উন্নতি মূল্যায়ন করা হবে। বর্তমানে তিনি নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করতে পারছেন না, তবে একসময় সেনাবাহিনী মাঠ থেকে প্রত্যাহার করা হবে।
আজ সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন সরকার এলে হাইকমিশনার বা রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ স্বাভাবিক। বৈঠকে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যার ঘটনা যেন আর না ঘটে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় র্যাবের নাম ও পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, র্যাব বিষয়ে জনচাহিদা রয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদেও সুপারিশ করা হয়েছিল কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার। এখন বাস্তবতার নিরিখে র্যাবের কার্যক্রম, জুরিসডিকশন, জবাবদিহি ও সেবা সর্বোচ্চভাবে নিশ্চিত করার জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, দেশে ২৭টি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিসের কোনো সেবা নেই। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আলাদা প্রকল্প নেওয়া হবে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের নিয়োগ স্বচ্ছভাবে পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত জারি করা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স এবং ক্রয় করা অস্ত্রের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
সিএ/এমই


