ইসরায়েল-মার্কিন সমন্বিত হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে। অপ্রত্যাশিত এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। কীভাবে তাঁকে টার্গেট করা হলো এবং কেন শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল বেছে নেওয়া হয়েছিল—এ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনির সঙ্গে তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টাদের বৈঠক নিশ্চিত হওয়ার পরপরই তেহরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-মার্কিন বিমান ও নৌ অভিযান শুরু হয়। একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, হামলায় চমক বজায় রাখতে শুরুতেই খামেনিকে টার্গেট করা জরুরি ছিল। শঙ্কা ছিল—সুযোগ পেলে তিনি আত্মগোপন করতে পারেন।
মার্কিন সূত্র আরও জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় বৈঠকের কথা থাকলেও ইসরায়েলি গোয়েন্দারা জানতে পারে যে বৈঠকটি এগিয়ে শনিবার সকালে করা হবে। এ তথ্য পাওয়ার পরই হামলার সময় এগিয়ে আনা হয়। বৈঠকের সুনির্দিষ্ট স্থান নিশ্চিত করা না গেলেও গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্যেই অভিযান চালানো হয়।
হামলা
অভিযানের শুরুতেই তেহরানে খামেনির উচ্চ-নিরাপত্তা কম্পাউন্ডে হামলা চালানো হয়। স্যাটেলাইট চিত্রে ওই স্থাপনা ধ্বংস হওয়া নিশ্চিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এতে ইরানের ৪৬ বছরের শিয়া-ধর্মতান্ত্রিক পরিচালনব্যবস্থা এক বড় ধাক্কা খায়। একই সঙ্গে তেহরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পরপরই ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে পাল্টা আঘাত হানে ইসরায়েল, কাতার, বাহরাইন, আরব আমিরাত, জর্ডান ও কুয়েতে।
প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, খামেনির হত্যাকারীদের কঠোর ও অনুশোচনাহীন শাস্তি দেওয়া হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, উম্মাহর ইমামের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ইরানি জাতির প্রতিশোধের হাত কঠোর শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত থামবে না।
ইসরায়েল দাবি করেছে, এ হামলায় খামেনির পাশাপাশি তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলী শামখানি এবং মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন।
রয়টার্সকে দুই ইরানি সূত্র জানায়, হামলার সময় খামেনি নিরাপদ স্থানে ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে ছিলেন সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি। আলী লারিজানি হামলা থেকে বেঁচে যান এবং আন্তর্জাতিক ‘অত্যাচারীদের’ বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ঘোষণা
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন রোববার ভোরে খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, কালো ব্যানারের সঙ্গে তাঁর আর্কাইভ ভিডিও দেখানো হচ্ছে। গণমাধ্যমে তাঁর কন্যা, জামাতা ও নাতনির মৃত্যুর তথ্যও প্রকাশ করা হয়।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাঁর মৃত্যুকে ‘অভিভাবকের শাহাদাত’ হিসেবে তুলে ধরে জানায়, এটি কোনো পরাজয় নয়; বরং জাতির সার্বভৌমত্বের জন্য চূড়ান্ত আত্মত্যাগ।
খামেনির অফিসিয়াল ফার্সি অ্যাকাউন্ট এক্স-এ কোরআনের একটি আয়াত পোস্ট করে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে। তাসনিম নিউজের বরাতে জানানো হয়—রোববার ভোরে কর্মস্থলে থাকাকালীন তিনি নিহত হন।
সিএ/এসএ


