বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগের জন্য ৮০ হাজারের বেশি শিক্ষক আবেদন করেছেন। নিয়োগ পরীক্ষা সম্ভাব্যভাবে আগামী ১৭ ও ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে পারে। আজ শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছেন বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম।
চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, “প্রতিষ্ঠানপ্রধান পদে নিয়োগের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ ও ১৮ এপ্রিল। শিগগিরই এ বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করা হবে।” এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়া এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রথমবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২৯ জানুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রধান, সহকারী প্রধান, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপারের শূন্য পদে আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে।
এনটিআরসিএর তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আবেদন পড়েছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে। নিয়োগ পরীক্ষায় নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের জন্য ৮০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা ও ৮ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের ওপর ১২ নম্বর বরাদ্দ থাকবে।
লিখিত পরীক্ষা এমসিকিউ পদ্ধতিতে হবে, সময় ১ ঘণ্টা। মোট ৮০টি প্রশ্ন থাকবে, প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর এবং ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। পাসের জন্য প্রতিটি অংশে আলাদাভাবে ৪০ শতাংশ নম্বর প্রয়োজন। আবেদনকারীদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বশেষ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুসরণ করা হবে।
২০০৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা আয়োজন করছে এবং ২০১৬ সাল থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক-প্রভাষক নিয়োগের প্রার্থী নির্বাচন ও নিয়োগের সুপারিশ করে আসছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ গত ২৭ জানুয়ারি জারি করা পরিপত্রে এনটিআরসিএকে অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, উপাধ্যক্ষ, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপারিনটেনডেন্ট ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট নিয়োগের ক্ষমতা প্রদান করেছে।
শূন্য পদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় স্নাতক পাস কলেজে অধ্যক্ষ ৫৮৪টি ও উপাধ্যক্ষ ৬২৭টি, উচ্চমাধ্যমিক কলেজে অধ্যক্ষ ৭৬৮টি। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ৩,৯২৩টি ও সহকারী প্রধান শিক্ষক ৩,৮৭২টি। নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ৫০৪টি শূন্য পদ রয়েছে। মোট শূন্য পদ ১০,২৭৮টি।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা অধ্যক্ষ ১১০টি ও ভোকেশনালের সুপারিনটেনডেন্ট ৪০টি সহ মোট ১৫০টি শূন্য পদ রয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় কামিল পর্যায়ের অধ্যক্ষ ৩৪টি ও উপাধ্যক্ষ ৫৩টি, ফাজিল অধ্যক্ষ ২০২ ও উপাধ্যক্ষ ৩৪৩, আলিম অধ্যক্ষ ২১৯ ও উপাধ্যক্ষ ৩৭৭। দাখিলের সুপারিনটেনডেন্ট ৮৯৯, সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট ১,০০৪সহ মোট শূন্য পদ ৩,১৩১টি।
সিএ/এসএ


