পুরান ঢাকার নারিন্দার মৈশুন্ডিতে একটি বাসায় শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ মো. সেলিম ব্যাপারী (৩০) মারা গেছেন। শুক্রবার ( ৫ ডিসেম্বর) রাতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় দগ্ধ তাঁর মা সেলিনা বেগম (৪৫) ও বাবা মুক্তার ব্যাপারী (৫৫) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মুক্তার ব্যাপারী সপরিবারে নারিন্দা কাঁচাবাজারের কাছে দক্ষিণ মৈশুন্ডির একটি বাড়ির তৃতীয় তলায় বসবাস করতেন। তাঁর ফ্রিজ ও এসির ব্যবসা রয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বাসায় এসিতে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো বাসায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘন ধোঁয়ায় এলাকা ছেয়ে যায়।
প্রতিবেশীরা জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দগ্ধ অবস্থায় মুক্তার ব্যাপারী, তাঁর স্ত্রী সেলিনা বেগম ও তাঁদের একমাত্র সন্তান সেলিমকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেলিম মারা যান।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান বলেন, ‘সেলিমের শরীরের ১০০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। তাঁর বাবা মুক্তারের শরীরের ২২ ও মা সেলিনার ২০ ভাগ পুড়ে গেছে।’
ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মফিজুর রহমান বলেন, ‘মুক্তার ফ্রিজ ও এসির গ্যাস সিলিন্ডার বাসায় এনে রেখেছিলেন। ওই গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর সেটি বাসার দেয়াল ভেঙে পাশের একটি টিনশেড বাড়ির ওপরে পড়ে। এতে ওই বাসার এক নারী আহত হন।’
প্রতিবেশীরা পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনায় আহত অন্যদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
সিএ/এমই


