‘নগদ’-এ কেন নজরে ব্যারিস্টার আরমান?
ডাক বিভাগের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবা নগদ–এ বিদেশি বিনিয়োগের প্রসঙ্গ ঘিরে আলোচনায় এসেছেন ঢাকা–১৪ আসনের এমপি ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। এ বিষয়ে তিনি বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংক–এর সঙ্গে।
কেন আলোচনায়?
৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে আরমান গভর্নরকে চিঠি দেন নগদে বিদেশি বিনিয়োগকারীর জন্য ফাইন্যান্সিয়াল ভ্যালুয়েশন (অডিট) অনুমোদনের অনুরোধ করে।
এ কারণে তার আগ্রহকে ঘিরে প্রশ্ন ও কৌতূহল তৈরি হয়।
বৈঠকে কী বলা হলো?
গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ও ব্যারিস্টার আরমানের বৈঠকের পর জানানো হয়—
একটি বিদেশি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’-এ বিনিয়োগে আগ্রহী।
অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এ আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় এখন সরকারি নীতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আরমান বলেন—
সরকার দেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগও বাড়াতে আগ্রহী।
তিনি এখন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লোকাল রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে যোগাযোগ করছেন।
পটভূমি: ‘নগদ’ বিক্রি ও বিনিয়োগ প্রক্রিয়ার আগের ধাপ
অন্তর্বর্তী সরকার ‘নগদ’-কে বেসরকারি খাতে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
আর্থিক মূল্য নির্ধারণ ও কৌশলগত অংশীদার খুঁজতে বিডা আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে (৩১ আগস্ট ২০২৩)।
পরে ১১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট এ প্রক্রিয়া স্থগিত করে, কারণ এখনো ‘নগদ’-এ প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা–সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে— দেশি–বিদেশি মোট চারটি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে ‘নগদ’-এ বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে।
ব্যারিস্টার আরমান কে?
তিনি জামায়াতে ইসলামী নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে।
২০১৬ সালে গুম হয়ে দীর্ঘ আট বছর ‘আয়নাঘর’-এ ছিলেন বলে দাবি।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর মুক্তি পান এবং ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা–১৪ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
নির্বাচনী হলফনামায় মোট সম্পদ দেখান ২ কোটি টাকা।


