ইরানে মার্কিন হামলার সম্ভাবনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরাইলি রাজনীতিবিদরা এখন মনোযোগ দিচ্ছেন আরেক আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী তুরস্কের দিকে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্ককে কেন্দ্র করে ইসরাইলের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে এবং দেশটির বিভিন্ন রাজনীতিবিদ তুরস্ককে নতুন হুমকি হিসেবে উল্লেখ করছেন।
সাবেক ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট, যিনি এ বছর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তিনি সম্প্রতি তুরস্ককে ইসরাইলের জন্য হুমকি হিসেবে ঘোষণা করেছেন। গত সপ্তাহে এক সম্মেলনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি বলেন যে ইসরাইলের উচিত তুরস্ককে ইরানের মতোই একটি আঞ্চলিক অক্ষের অংশ হিসেবে দেখা। তাঁর মতে, তুরস্কের ভূমিকা উপেক্ষা করা এখন ভুল হবে।
বেনেট বলেন, একটি নতুন তুর্কি হুমকি তৈরি হচ্ছে এবং ইসরাইলকে তেহরান ও আঙ্কারার শত্রুতার বিরুদ্ধে সমান্তরালভাবে কাজ করতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে আরও অনেক ইসরাইলি রাজনীতিবিদ তুরস্কের ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান এবং গাজায় ইসরাইলি হামলার তীব্র সমালোচনাকে দেশের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রোববার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন সফর ঘিরে তিনি একটি নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনের পরিকল্পনা করছেন। তাঁর দাবি, এই জোট উদীয়মান সুন্নি অক্ষকে ছাড়িয়ে ইসরাইলের প্রভাবকে আরও শক্তিশালী করবে। গ্রীস ও সাইপ্রাসের মতো দেশ, যাদের সঙ্গে তুরস্কের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন রয়েছে, এই জোটের অংশ হতে পারে।
এদিকে ইসরাইলের সাবেক রাষ্ট্রদূত অ্যালন পিঙ্কাস বলেন, ইসরাইলি রাজনীতিতে একটি চিরস্থায়ী হুমকির ধারণাকে কেন্দ্র করে অনেক বক্তব্য তৈরি হয়। তাঁর মতে, তুরস্ক না থাকলে ইরাক, ইরাক না থাকলে হিজবুল্লাহ—সবসময়ই একটি শত্রু চরিত্র ইসরাইলে রাজনৈতিক কথোপকথনের অংশ হয়ে ওঠে।
আল জাজিরা জানায়, ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে হামাসের হামলার পর থেকে ইসরাইল গাজায় ব্যাপক যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। এরপর তারা লেবানন, ইয়েমেন ও সিরিয়ার বিভিন্ন অংশে হামলা চালিয়েছে এবং পশ্চিম তীরেও দখল জোরদারের চেষ্টা করছে। এই চিত্রের পটভূমিতে তুরস্ককে নতুন হুমকি বলে তুলে ধরছেন ইসরাইলি রাজনীতিবিদরা।
সিএ/এসএ


